TMC-নেতার ‘দখলদারি’! সরকারি জমি দখল করে রমরমিয়ে ব্যবসা! চাঞ্চল্য ঘটনায়

রাজ্যে সরকারি জমি জবরদখল বিরোধী অভিযানের মধ্যেই আসানসোলের ধেমোমেন কোলিয়ারি এলাকায় প্রকাশ্যে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা রোহিত নোনিয়ার বিরুদ্ধে ইসিএল (ECL)-এর জমি দখল করে পেট্রল পাম্প চালানো এবং অফিস তৈরির অভিযোগ উঠল। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

অভিযোগের মূলে যা: অভিযোগ রয়েছে, ইসিএল-এর জমিতে দীর্ঘ দিন ধরে নিয়মবহির্ভূতভাবে একটি পেট্রল পাম্প চালাচ্ছেন তৃণমূল নেতা রোহিত নোনিয়া। শুধু তাই নয়, ওই পেট্রল পাম্পের পাশেই একটি সুসজ্জিত অফিস তৈরি করে সেখানে রেল সাইডিংয়ের ট্রান্সপোর্ট ব্যবসাও চালাতেন তিনি। বিষয়টি নজরে আসার পরই ইসিএল কর্তৃপক্ষ কড়া অবস্থান নিয়েছে। সরাসরি রোহিত নোনিয়ার নামে নোটিশ জারি করে অবিলম্বে ওই জমি খালি করতে এবং বেআইনি নির্মাণ সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক পটভূমি ও ইস্তফা রহস্য: সিপিআইএম আমলের প্রাক্তন কাউন্সিলর রোহিত নোনিয়া পরবর্তী সময়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়ে এলাকায় প্রভূত প্রভাব বিস্তার করেন। সরাসরি ভোটে না দাঁড়ালেও, নিজের ছেলে সঞ্জয় নোনিয়াকে আসানসোল পুরনিগমের কাউন্সিলর ও বরো চেয়ারম্যান পদে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন তিনি। কিন্তু সম্প্রতি ছন্দপতন ঘটে। শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে গত দু’দিন আগেই সঞ্জয় নোনিয়া কাউন্সিলর পদ ও দলীয় দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দেন।

হামলার অভিযোগ ও ফেরার নেতা: ইস্তফার পরপরই বুধবার রাতে ধেমোমেন এলাকায় বিজেপির একটি অনুষ্ঠানে দুষ্কৃতী হামলার অভিযোগ ওঠে। এক বিজেপি কর্মীকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় নাম জড়ায় রোহিত ও সঞ্জয় নোনিয়ার। এই ঘটনার পর থেকেই পিতা-পুত্র এলাকা থেকে বেপাত্তা।

প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের অভিযোগ: স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে ইসিএল ও অন্যান্য সরকারি জমি দখল করে নিজেদের ‘সাম্রাজ্য’ গড়ে তুলেছিলেন নোনিয়া পরিবার। বর্তমানে তাঁদের রাজনৈতিক প্রভাব কমতেই প্রশাসনের কড়া নজরদারিতে পড়ে একের পর এক অবৈধ দখলের তথ্য বেরিয়ে আসছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূল কাউন্সিলরের ইস্তফা এবং তারপর ইসিএল-এর এই কড়া আইনি পদক্ষেপ—পুরো বিষয়টি নোনিয়া পরিবারের পতনের সূচনা কি না, তা নিয়ে এখন সরগরম আসানসোল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy