“TET-এর গুরুত্ব বাড়ছে”-প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে আসছে বড় পরিবর্তন?

পশ্চিমবঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার (টেট) গুরুত্ব আরও বাড়াতে চলেছে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। নিয়োগ-বিধির খসড়ায় একাধিক বড় পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো টেট পরীক্ষায় বরাদ্দ নম্বর ৫ থেকে বাড়িয়ে ২৫ করা

প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি গৌতম পাল জানিয়েছেন, এটি কেবল একটি খসড়া নিয়োগবিধি। পড়ুয়া, শিক্ষক এবং শিক্ষাবিদদের মতামত গ্রহণের জন্য এটি প্রকাশ করা হয়েছে, যার ভিত্তিতে চূড়ান্ত বিধি তৈরি হবে।

খসড়া নিয়োগ-বিধিতে ওয়েটেজ বন্টন (৫০ নম্বরের মধ্যে)

নিয়োগ-বিধির খসড়ায় ওয়েটেজ বন্টনের ক্ষেত্রে একাধিক অদলবদল আনা হয়েছে। বর্তমানে প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলি নিম্নরূপ:

বিভাগবর্তমান ওয়েটেজ (প্রস্তাবিত)আগের ওয়েটেজপরিবর্তন
টেট পরীক্ষা২৫ নম্বর৫ নম্বরপাঁচ গুণ বৃদ্ধি
উচ্চ মাধ্যমিক (Higher Secondary)৫ নম্বর১০ নম্বরকমেছে
শিক্ষকতার প্রশিক্ষণ (D.El.Ed / B.El.Ed)৫ নম্বর১৫ নম্বরকমেছে
মাধ্যমিক (Secondary)৫ নম্বর৫ নম্বরঅপরিবর্তিত
ইন্টারভিউ ও ক্লাস রুম ডেমনস্ট্রেশন১০ নম্বর১০ নম্বরঅপরিবর্তিত
এক্সট্রা ক্যারিকুলার অ্যাক্টিভিটি০ নম্বর৫ নম্বরবাদ দেওয়া হয়েছে
মোট৫০ নম্বর৫০ নম্বরঅপরিবর্তিত

 

কেন এই পরিবর্তন?

 

শিক্ষা দপ্তরের এক প্রশাসক জানান, শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে টেটই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

  • মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় এখন নম্বর প্রাপ্তির হার অনেক বেড়েছে, তাই ট্রেনিং এবং উচ্চ মাধ্যমিকে বরাদ্দ নম্বর কমানো হয়েছে।
  • আগে ডিএলএড ট্রেনিং নিয়ে বিস্তর অভিযোগ থাকলেও, বর্তমানে প্রক্রিয়াটি অনেকটাই স্বচ্ছ।

এই পরিবর্তনগুলির মূল উদ্দেশ্য হলো, প্রথাগত পরীক্ষার নম্বরের চেয়ে শিক্ষক হওয়ার ক্ষেত্রে প্রার্থীর যোগ্যতা যাচাইয়ের মূল পরীক্ষা (টেট)-কে বেশি প্রাধান্য দেওয়া।

 

নিয়োগের মাঝে নিয়ম বদল নিয়ে উদ্বেগ

 

২০২২ সালের টেট উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীদের পক্ষ থেকে মোহিত করাতির বক্তব্য, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরে কোনও নিয়ম পরিবর্তন করা যায় না বলে সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে

  • পর্ষদ চলতি বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬ সালের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ বিধি (সংশোধিত) মেনে ১৩ হাজার ৪২১টি শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল।
  • চাকরিপ্রার্থীরা আশঙ্কা করছেন, যদি নতুন বিধি চূড়ান্ত হয়, তবে ভবিষ্যতে সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি হতে পারে।