SSC-তে ভিন রাজ্যের ১০% পরীক্ষার্থী, ‘যোগ্য’ চাকরিহারাদের তুমুল ক্ষোভ

আজ, রবিবার, নির্বিঘ্নেই শেষ হলো বহু প্রতীক্ষিত নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় মোট ৩ লক্ষ ১৯ হাজার ৯১৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। এর মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশ বা ৩১ হাজার পরীক্ষার্থীই ভিন রাজ্যের, যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
২০২৫ সালের এসএসসি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, যেকোনো ভারতীয় নাগরিক নির্দিষ্ট যোগ্যতার ভিত্তিতে এই পরীক্ষায় বসতে পারেন। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে উত্তর প্রদেশ, বিহার এবং ঝাড়খণ্ডের মতো রাজ্য থেকে হাজার হাজার পরীক্ষার্থী পশ্চিমবঙ্গে পরীক্ষা দিতে এসেছেন। মূলত হিন্দি ও ইংরেজি মাধ্যমে শিক্ষকতার জন্য তারা আবেদন করেছেন।
কেন ভিন রাজ্যের প্রার্থীরা এ রাজ্যে?
ভিন রাজ্য থেকে আসা অনেক পরীক্ষার্থীই এই রাজ্যে পরীক্ষা দিতে আসার কারণ হিসেবে তাদের নিজেদের রাজ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা ও দুর্নীতির কথা তুলে ধরেছেন:
- ভোট হয়, পরীক্ষা হয় না: বিহারের ভোজপুরের বাসিন্দা কামরান বলেন, “বিহারে কবে পরীক্ষা হবে তার ঠিক নেই। সামনে ভোট আছে, তাই পরীক্ষা কবে হবে জানি না।”
- দুর্নীতি সব জায়গায়: উত্তর প্রদেশের এক পরীক্ষার্থী রত্নেশ কুমার যাদব বলেন, “২০১৮ সালের পর থেকে উত্তর প্রদেশে কোনো পরীক্ষা হয়নি। ওখানে পরীক্ষার আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যায়। দুর্নীতি সব জায়গায় হয়।”
- অপেক্ষা ও আশা: ঝাড়খণ্ডের এক পরীক্ষার্থী বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে বড় মাপের দুর্নীতি হয়েছে, কিন্তু আমাদের রাজ্যেও দুর্নীতি হয়েছে। আমরা শুধু আশা নিয়েই বাঁচি। সব সময়েই পরীক্ষার প্রস্তুতিতে থাকি, যদি কোথাও একটা সরকারি চাকরি মেলে।”
উত্তর প্রদেশে ২০১৮ সালের একটি শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার তালিকাও এলাহাবাদ হাইকোর্ট বাতিল করে দিয়েছিল। একই ভাবে, বিহারে ২০২৪ সালে শিক্ষক নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। তাই এই সব রাজ্যের বহু পরীক্ষার্থী পশ্চিমবঙ্গে নিজেদের ভাগ্য পরীক্ষা করতে এসেছেন।
এর ফলে একদিকে যেমন রাজ্যের চাকরিহারা ‘যোগ্য’ প্রার্থীরা ক্ষুব্ধ, তেমনই নতুন পরীক্ষার্থীদের কাছেও এটি এক কঠিন প্রতিযোগিতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।