১০ দিনে ৪৫টি হামলা! পাকিস্তানের বুকে কেঁপে উঠল সেনা ছাউনি, রক্তক্ষয়ী সংঘাতের চাঞ্চল্যকর দাবি বিএলএ-র

বেলুচিস্তানের মাটিতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ওপর একের পর এক ভয়াবহ হামলার চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে সশস্ত্র গোষ্ঠী বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। তাদের সংবাদ শাখা ‘হাক্কাল’-এর প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ১০ দিনের মধ্যে বিএলএ যোদ্ধারা গোটা প্রদেশে মোট ৪৫টি পৃথক সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে। এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও বিস্ফোরণগুলোতে কমপক্ষে ৪৯ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন এবং আরও বহু সংখ্যক সেনা গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

বিএলএ-র দাবি অনুযায়ী, এই অভিযান চলাকালীন বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চেকপয়েন্ট জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছে তাদের যোদ্ধারা। একই সঙ্গে বিপুল পরিমাণ আধুনিক অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামও জব্দ করা হয়েছে। আইইডি বিস্ফোরণ, অতর্কিত আক্রমণ এবং সরাসরি সশস্ত্র লড়াইয়ের মাধ্যমে কৌশলগত মহাসড়কগুলোর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি।

গত ৩১ আগস্ট রাতে বেলুচিস্তানের সংবেদনশীল চাগাই জেলার পারমাণবিক শক্তিকেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় তীব্র হামলা চালিয়ে ২০ জন পাকিস্তানি সেনাকে খতম করার বিস্ফোরক দাবি করেছে তারা। এর আগে ১৯ আগস্ট কোয়েটা শহরের কাচি বাগ পুলিশ স্টেশন এবং মুনির আহমেদ রোডে অবস্থিত একটি সেনা ক্যাম্পে একযোগে শক্তিশালী হ্যান্ড গ্রেনেড হামলা চালানো হয়, যার ফলে নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এছাড়া ২২ আগস্ট জেহরির বুলবুল এলাকায় আইইডি বিস্ফোরণে দুই সেনার মৃত্যু এবং নুশকির ‘চড়হাই’ এলাকায় সেনা সদস্যদের সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষের কথা জানিয়েছে বিএলএ।

অন্যদিকে, কালাতের মারজান এলাকায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ওপর অতর্কিত হামলায় চার সেনা নিহত হন। বিএলএ-র বিশেষ শাখা এসটিওএস মাস্তুং-এর খারকোচা এলাকায় আইইডি ব্যবহার করে সেনাবাহিনীর একটি সাঁজোয়া যান সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেয়। পরবর্তীতে ভারী অস্ত্রের আঘাতে আরও একটি সামরিক যান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই সমস্ত সংঘর্ষে কেবল কালাত ও মাস্তুং অঞ্চলেই মোট ১৩ জন সামরিক কর্মী নিহত এবং দশজনেরও বেশি আহত হয়েছেন। পাশাপাশি, খারানের আলবাত এলাকায় প্রধান সেনা ক্যাম্পে রকেট ও ভারী অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয় এবং নিয়ামদারগি এলাকায় দীর্ঘক্ষণ মহাসড়ক অবরোধ করে রাখা হয়।

ওয়াশুকের আরামগাই এলাকায় সেনাবাহিনীর ওপর সশস্ত্র হামলায় তিনজন সৈন্য নিহত ও একটি সামরিক যান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এমনকি ছাগাইয়ের চারসার ও দলবন্দিন এলাকায় বাণিজ্যিক যানবাহন ও সেনা কনভয়কে লক্ষ্য করে চালানো হামলায় আরও পাঁচ সেনার মৃত্যু হয়েছে। ২৩ আগস্ট তুরবাতের হায়রাবাদ এলাকায় সেনা কনভয় সুরক্ষায় থাকা জওয়ানদের ওপর হামলা চালিয়ে তিনজনকে হত্যা করা হয়। বেলুচিস্তানে পাকিস্তানি সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এই রক্তক্ষয়ী লড়াই অব্যাহত থাকবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে বিএলএ।