আকাশপথে বড় ধাক্কা! চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে ৮.৫ শতাংশ বিমান কমাল ভারতীয় এয়ারলাইন্সগুলি

চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে ভারতীয় এয়ারলাইন্সগুলি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮.৫ শতাংশ কম ফ্লাইট পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশ্বব্যাপী ট্রাভেল ডেটা প্রদানকারী সংস্থা ‘ওএজি’ (OAG)-এর তথ্য অনুযায়ী, ইন্ডিগো, এয়ার ইন্ডিয়া, এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস, আকাশা এয়ার এবং স্পাইসজেটের মতো প্রধান আটটি ভারতীয় এয়ারলাইন্স এই সময়ে মোট ২,৭৩,৫৪৯টি ফ্লাইট নির্ধারিত করেছে, যা গত বছরের একই ত্রৈমাসিকে ছিল ২,৯৮,৯৩৯টি। অর্থাৎ এক ধাক্কায় প্রায় ২৫ হাজার ফ্লাইট কম চালানো হচ্ছে। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট ৮.৪ শতাংশ এবং আন্তর্জাতিক রুটে ৯.৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি পতন লক্ষ্য করা গেছে জুলাই মাসে, যেখানে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক শিডিউল যথাক্রমে ১০ ও ১৪ শতাংশ কমেছিল। এয়ারলাইন্সগুলির এই হঠাত্ বড়সড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে বেশ কিছু জটিল কারণ রয়েছে। বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রধানত অপারেশনাল বা কার্যপরিচালনাগত বাধা, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, আকাশসীমা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা, আকাশছোঁয়া এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল বা এটিএফ (ATF)-এর দাম এবং যাত্রীদের চাহিদাকম হওয়া এর জন্য দায়ী। উল্লেখ্য, এয়ারলাইন্সের মোট পরিচালন খরচের প্রায় ৪০ শতাংশই ব্যয় হয় জেট ফুয়েলের পেছনে। সাম্প্রতিক সংঘাতে আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামেলের দাম বাড়ায় দেশীয় বাজারেও এটিএফ-এর দাম দফায় দফায় বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিমান সংস্থাগুলির অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দিচ্ছে। সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতে এই জাঁতাকলে পড়ে ডোমেস্টিক এটিএফ-এর দাম প্রতি লিটারে ১২১ টাকার গণ্ডি ছাড়িয়ে যায়। এদিকে ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন (ডিজিসিএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই মাসে ভারতীয় এয়ারলাইন্সগুলি প্রায় ১২০ লক্ষ অভ্যন্তরীণ যাত্রী পরিবহন করেছে, যা আগের বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের জুলাইয়ের তুলনায় প্রায় ৪.৮ শতাংশ কম। একদিকে জ্বালানি তেলের লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি এবং অন্যদিকে যাত্রী চাহিদায় মন্দা—এই দুইয়ের ভারসাম্য বজায় রাখতেই বিমান সংস্থাগুলি ফ্লাইট সংখ্যা কমিয়ে নিজেদের অপারেশনাল কার্যকারিতা টিকিয়ে রাখার পথ বেছে নিয়েছে। এয়ারলাইন্সগুলির এই আকস্মিক ফ্লাইট ছাঁটাইয়ের ফলে আগামী দিনে টিকিটের দাম আরও চড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।