“FIFA-র ফান্ডে টান, বন্ধ FSDL-এর কোটি কোটি টাকা!”-আদৌ ব্রাজ়িল ম্যাচ হবে তো?

আগামী ৩ অক্টোবর যুবভারতীতে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক ফ্রেন্ডলি ম্যাচ খেলতে নামছে ভারত। একই সঙ্গে পানামা ও উরুগুয়ের বিরুদ্ধেও ব্লু টাইগার্সদের নামার কথা রয়েছে। তবে ফুটবলের এই মহাযজ্ঞ ঘিরে রাজ্যজুড়ে উন্মাদনা তৈরি হলেও, মাঠের বাইরে এই মেগা ইভেন্টের বিপুল অর্থায়ন ও সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের (AIFF) আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রবল প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে ফেডারেশনের ভঙ্গুর অর্থনৈতিক ছবি সামনে আসায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
সংবাদসংস্থা ‘খেল নাও’-এর প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে এআইএফএফ-এর মোট আয় প্রধানত তিনটি ভাগে বিভক্ত। এর মধ্যে নিয়মিত অপারেটিং অ্যাকাউন্টে রয়েছে ১১.২৫ কোটি টাকা, ফিফা ও এএফসি-র বিশেষ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ ২২.৪৫ কোটি টাকা এবং ফিক্সড ডিপোজিট ও বন্ডে রয়েছে ২১.৬৩ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে মোট ৫৫.৩৩ কোটি টাকার তহবিল থাকলেও ফেডারেশনের দৈনন্দিন কাজকর্ম পরিচালনার মতো কার্যকরী অর্থ মাত্র ১১.২৫ কোটি টাকা। অথচ একা ব্রাজিল ম্যাচটির আয়োজন করতেই খরচ হচ্ছে আনুমানিক ৬০ থেকে ৭০ কোটি টাকা। ফেডারেশনের সমগ্র সঞ্চিত তহবিল ভেঙেও এই বিপুল খরচের ঘাটতি পূরণ করা অসম্ভব।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে এফএসডিএল (FSDL)-এর সঙ্গে দীর্ঘ ১৫ বছরের ৭০০ কোটি টাকার মাস্টার রাইটস চুক্তি গত বছরের ৮ ডিসেম্বর শেষ হয়ে যাওয়ায়। এখনও সেই চুক্তি নবীকরণ না হওয়ায় এফএসডিএল-এর বার্ষিক ৫০ কোটি টাকার অনুদান পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেলে ১৩টি আইএসএল ক্লাব থেকে ফেডারেশন বার্ষিক মাত্র ১৪.৩ কোটি টাকা পার্টিসিপেশন ফি পাচ্ছে, যা আগের আয়ের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। এর ওপরে আর্থিক সংকটের কারণে ফিফা আসিয়ান কাপ (FIFA ASEAN Cup 2026) থেকেও নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছে ভারত, যে টুর্নামেন্টে অংশ নিলে যাতায়াত ও অন্যান্য সমস্ত খরচ বহন করত বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা নিজেই।
এই আকাশছোঁয়া খরচের উৎস এবং সরকারি অনুদান নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ফেডারেশনের এক শীর্ষ কর্তা দাবি করেছেন, ব্রাজিল চুক্তিতে ‘গোপনীয়তা রক্ষার শর্ত’ (Confidentiality clause) থাকায় বিস্তারিত জানানো সম্ভব নয়। তবে ২১.৬৩ কোটির ফিক্সড ডিপোজিট বা বন্ড অক্ষত রয়েছে বলে তিনি দাবি করলেও, রাজ্য সরকারের তহবিল, টিকিট বিক্রি বা স্পনসরদের মাধ্যমে এই বিরাট আর্থিক ফারাক কীভাবে পূরণ করা হবে, তার কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা মেলেনি। ফলে বিপুল আর্থিক ঝুঁকি মাথায় নিয়ে আয়োজিত এই মেগা ফ্রেন্ডলি ম্যাচ শেষ পর্যন্ত ভারতীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ অর্থনীতিকে কোন দিকে চালিত করে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।