SIR পর্ব শেষ হওয়ার পরও ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করা যাবে, নতুন নিয়মে আধার-নির্ভর অনলাইন প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলক

রাজ্যে বর্তমানে ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া চললেও, এই প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যাওয়ার পরও নতুন ভোটাররা নাম নথিভুক্ত করার সুযোগ পাবেন। তবে সেক্ষেত্রে জাতীয় নির্বাচন কমিশন নতুন কিছু নিয়ম কার্যকর করার কথা ঘোষণা করেছে।

SIR-এর কাজ আগামী ৪ ডিসেম্বর শেষ হবে এবং আগামী ৯ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে। এরপরও নাম নথিভুক্তির জন্য পরিবর্তনগুলি নিম্নরূপ:

শুধুমাত্র অনলাইন প্রক্রিয়া

  • মাধ্যম পরিবর্তন: আগে অফলাইন ও অনলাইন, দুইভাবেই নতুন ভোটাররা নাম তুলতে পারতেন। কিন্তু এবার থেকে শুধু অনলাইনেই ৬ নম্বর ফর্ম পূরণ করে ভোটার তালিকায় নাম তুলতে হবে।

  • আধার বাধ্যতামূলক: এই অনলাইন প্রক্রিয়ায় আধার কার্ড বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। অনলাইনে নাম নথিভুক্ত করতে গেলে ‘ই-সাইন’-এর প্রয়োজন হবে, যা আধার কার্ডের মাধ্যমে ওটিপি (OTP) দিয়ে সম্পন্ন করতে হবে। SIR-এর ফর্ম পূরণকারীরাও একই আধার ওটিপি ভিত্তিক ই-সাইন ব্যবহার করছেন।

অ্যানেক্সচার-৪ বাধ্যতামূলক

নতুন ভোটারদের অ্যানেক্সচার-৪ জমা দিতে হবে। এই ফর্মে আবেদনকারীকে তাঁর মা-বাবা বা পিতামহ-পিতামহীর নাম ২০২৫ সালের SIR তালিকা (৯ ডিসেম্বর প্রকাশিত খসড়া তালিকা) অনুযায়ী লিখতে হবে।

বর্তমানে যাঁরা SIR-এর ফর্ম অনলাইনে পূরণ করছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে বাবা-মা বা ঠাকুমা-ঠাকুর্দার ভোটার তালিকায় নাম থাকার তথ্য দিলেই সম্পূর্ণ তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে আসছে। নতুন ভোটারদের ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতিতে অনলাইনে ফর্ম পূরণ করা যাবে। নাম নথিভুক্তির জন্য নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত অন্যান্য নথিপত্রও প্রয়োজন হবে।

চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ ৭ ফেব্রুয়ারি

আগামী ৯ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হলেও চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হতে আরও দু’মাস সময় লাগবে:

  • দাবি ও আপত্তি পেশ: ৯ ডিসেম্বর থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত ভোটাররা নাম বাতিল বা ভুল সংক্রান্ত বিষয়ে নিজেদের দাবি নির্বাচন কমিশনের কাছে পেশ করতে পারবেন।

  • শুনানি ও যাচাই: ৯ ডিসেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সেই সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে শুনানি ও তথ্য যাচাইয়ের কাজ চলবে।

  • চূড়ান্ত প্রকাশ: আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।