SIR তালিকা থেকে বাদ ৯১ লক্ষ! ৬৩ শতাংশই হিন্দু, মুসলিম কত? পরিসংখ্যান আসতেই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে TMC-BJP!

লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে ‘নাগরিকত্ব’ ও ‘তালিকায় নাম বাদ’ সংক্রান্ত বিতর্ক মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। সম্প্রতি ‘স্টেট আইডেন্টিফিকেশন রেজিস্টার’ (SIR) থেকে বাদ পড়া ৯১ লক্ষ মানুষকে নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। চাঞ্চল্যকর তথ্য বলছে, এই তালিকায় বাদ পড়াদের মধ্যে ৬৩ শতাংশই হিন্দু সম্প্রদায়ের। এই পরিসংখ্যান প্রকাশ্যে আসতেই একে অপরকে আক্রমণ করতে মাঠে নেমেছে তৃণমূল ও বিজেপি।
পরিসংখ্যানের লড়াই: প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, SIR থেকে যে ৯১ লক্ষ মানুষের নাম বাদ যাওয়ার বা ত্রুটিপূর্ণ হওয়ার কথা বলা হচ্ছে, তার বিভাজন নিম্নরূপ:
হিন্দু সম্প্রদায়: বাদ পড়াদের মধ্যে প্রায় ৬৩ শতাংশ বা প্রায় ৫৭ লক্ষ মানুষ হিন্দু।
মুসলিম সম্প্রদায়: বাকি প্রায় ৩৭ শতাংশ বা প্রায় ৩৪ লক্ষ মানুষ মুসলিম সম্প্রদায়ের।
তৃণমূলের আক্রমণ: তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে সরাসরি বিজেপিকে নিশানা করেছেন। তাঁর দাবি, “বিজেপি কেবল ভোটের জন্য হিন্দু-মুসলিম বিভাজন করে। কিন্তু বাস্তবে ওদের তৈরি জটিলতায় হিন্দুদের নামই সবথেকে বেশি কাটা যাচ্ছে। এনআরসি বা এই ধরণের তালিকার মাধ্যমে আদতে বাংলার মানুষকে ভিটেমাটিহীন করার চক্রান্ত চলছে।” তৃণমূলের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে যে, এনআরসি কার্যকর হলে হিন্দুরাই সবথেকে বেশি বিপদে পড়বেন।
বিজেপির পাল্টা চাল: পাল্টা তোপ দেগেছে গেরুয়া শিবিরও। রাজ্য বিজেপির নেতাদের দাবি, SIR-এর এই তালিকা কোনোভাবেই এনআরসি নয়। বরং এটি প্রশাসনিক ত্রুটি যা তৃণমূল সরকারের আমলেই হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, “তৃণমূল ভয় দেখিয়ে সংখ্যালঘু ভোট ব্যাংক নিশ্চিত করতে চাইছে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে সিএএ (CAA)-র মাধ্যমে প্রতিটি হিন্দু শরণার্থীকে নাগরিকত্ব দেবে। হিন্দুদের নাম কেন বাদ গেল, তার দায় রাজ্য সরকারেরই।”
রাজনৈতিক প্রভাব: বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিসংখ্যান সামনে আসায় দুই শিবিরেরই ভোট সমীকরণে প্রভাব পড়তে পারে। একদিকে তৃণমূল যেমন হিন্দুদের মধ্যে বিজেপি-ভীতি তৈরির সুযোগ পাচ্ছে, অন্যদিকে বিজেপিও নাগরিকত্ব আইন (CAA)-কে হাতিয়ার করে হিন্দুদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছে।
৯১ লক্ষ মানুষের এই তালিকায় নাম থাকা নিয়ে জনমনে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, তা লোকসভা ভোটের বাক্সে কার দিকে পাল্লা ভারী করে, এখন সেটাই দেখার।