SIR-এ ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ, ২৭ লক্ষ মানুষের হয়ে সুপ্রিম কোর্টে অধীর

পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর (SIR) বা ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের প্রক্রিয়ায় নাম বাদ যাওয়া নিয়ে রাজ্যের রাজনীতি উত্তাল। এবার এই লক্ষ লক্ষ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তাঁর দাবি, কোনও নির্দিষ্ট নিয়ম না মেনেই রাজ্য জুড়ে ২৭ লক্ষ মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে অবিলম্বে স্বচ্ছতার প্রয়োজন।
অধীরের অভিযোগের মূল দিকগুলি:
নিজের আবেদনে অধীর চৌধুরী একাধিক বিস্ফোরক দাবি করেছেন:
ইচ্ছাকৃত নাম বাদ: মুর্শিদাবাদ জেলায় বানান ভুল বা ঠিকানার ছোটখাটো অজুহাতে প্রায় ৫ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে কেটে দেওয়া হয়েছে।
সরকারি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত: ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ায় বহু দরিদ্র মানুষ রেশন কার্ড, বার্ধক্য ভাতা সহ বিভিন্ন সরকারি কল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
শুনানির অভাব: বহু ক্ষেত্রে যথাযথ শুনানির সুযোগ না দিয়েই নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যা চরম অগণতান্ত্রিক।
কী দাবি জানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা?
সুপ্রিম কোর্টের কাছে অধীর চৌধুরীর আবেদনের মূল লক্ষ্য হলো স্বচ্ছতা ও দ্রুত ন্যায়বিচার। তাঁর উল্লেখযোগ্য দাবিগুলি হলো: ১. ডিজিটাল পোর্টাল: মামলার বর্তমান অবস্থা, শুনানির তারিখ এবং রায়ের কপি দেখার জন্য একটি স্বচ্ছ ডিজিটাল পোর্টাল তৈরির আবেদন জানিয়েছেন তিনি। ২. বিচারপতি নিয়োগ: রাজ্যের ট্রাইব্যুনালগুলিতে প্রচুর মামলা পেন্ডিং থাকায়, দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আরও বেশি সংখ্যক কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি নিয়োগের দাবি জানানো হয়েছে। ৩. দ্রুত নিষ্পত্তির প্রয়োজনীয়তা: অধীরের মতে, মুর্শিদাবাদের বর্তমান দুটি ট্রাইব্যুনাল যে গতিতে কাজ করছে, তাতে সব মামলার নিষ্পত্তি হতে ৪ থেকে ৫ বছর লেগে যেতে পারে। তাই বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম পরবর্তী সময়ে ট্রাইব্যুনালের কাজ আরও দ্রুত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়ছে
মুর্শিদাবাদ সহ রাজ্যের অন্যান্য জেলায় নাম বাদ যাওয়া নিয়ে জনরোষ ক্রমশ বাড়ছে। অধীর রঞ্জন চৌধুরীর এই মামলা রাজ্যের এসআইআর প্রক্রিয়ার বৈধতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিল। এখন সুপ্রিম কোর্ট এই আবেদনে কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই দেখার অপেক্ষায় রাজনৈতিক মহল।