SIR-এর পর ৫৪ লক্ষ নাম বাদ পড়ার মুখে! মৃত ২৩ লক্ষ, খোঁজ নেই ১০ লক্ষ ভোটারের, কমিশনে চাঞ্চল্যকর তথ্য

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া চলাকালীন নির্বাচন কমিশন (EC) চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে। এখনও পর্যন্ত ৫৪ লক্ষ ৫৯ হাজার ৫৪১টি এনুমারেশন ফর্ম জমা পড়েনি। ফর্ম জমা দেওয়ার শেষ তারিখের আগে এই বিশাল সংখ্যক ভোটারের নাম খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়ার মুখে।কমিশনের পরিসংখ্যান: বাদ পড়ার সম্ভাব্য কারণনির্বাচন কমিশনের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যে ৫৫ লক্ষের বেশি নাম বাদ পড়তে পারে, তার সম্ভাব্য কারণগুলি নিম্নরূপ:কারণসংখ্যামৃত ভোটার২৩ লক্ষ ৭১ হাজার ২৩৯ জনস্থানান্তরিত ভোটার১৯ লক্ষ ৮ হাজার ২৩৩ জনডাবল এন্ট্রি১ লক্ষ ২৬ হাজার ৩২৯ জনখোঁজ মেলেনি১০ লক্ষ ১৫ হাজার ১২২ জনঅন্যান্য৩৮ হাজার ৬১৮ জনSIR-এর মূল লক্ষ্য: এই সংশোধনীর লক্ষ্য হলো, কোনও যোগ্য নাগরিক যেন বাদ না পড়েন এবং কোনও অযোগ্য বা জালিয়াতি করা ব্যক্তি যেন ভোটার তালিকায় থেকে না যান। নির্ভুল ও জালিয়াতিমুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করাই SIR-এর মূল উদ্দেশ্য।ভোটার তালিকা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরকমিশনের এই উদ্যোগ সত্ত্বেও ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়াটি এখন রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। নাম ঢোকানো বা বাদ দেওয়া নিয়ে রাজ্যের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে:শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ: বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, ২৬ থেকে ২৮ নভেম্বর—এই তিন দিনে রাতারাতি ১ কোটি ২৫ লক্ষ নাম এন্ট্রি করা হয়েছে।ফিরহাদ হাকিমের অভিযোগ: তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিম কমিশনের উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “ব্লক কে ব্লক উধাও হয়ে গেছে, ইলেকশন কমিশন এখন ম্যাজিশিয়ান হয়ে গেছে। বাড়ি সমেত ভ্যানিশ করে দিচ্ছে।”নাম ঢোকানো বা বাদ দেওয়া নিয়ে এই ধরনের তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক কেন হচ্ছে, সেই প্রশ্ন উঠেছে।২০০২ সালের SIR এবং বর্তমান পরিস্থিতিএই প্রসঙ্গে ২০০২ সালের SIR প্রক্রিয়ার দিকে নজর ফেরানো হয়েছে। সেই সময় দেশে সপ্তম এবং শেষ SIR হয়েছিল:২০০২ সালের SIR: সেই সময়ে প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকায় পশ্চিমবঙ্গে ৬৯ লক্ষ ভোটারের নাম কমেছিল।প্রায় ৫০ লক্ষ ভোটারকে তাঁদের ঠিকানায় খুঁজে পাওয়া যায়নি (ভুয়ো বা স্থানান্তরিত ছিলেন)।১৯ লক্ষ ভোটার মারা গিয়েছিলেন।ফলাফল: সংশোধনের পর চূড়ান্ত ভোটারের সংখ্যা ছিল ৪ কোটি ৫৮ লক্ষ, যা সংশোধনের আগের সংখ্যা (৪ কোটি ৮২ লক্ষ) থেকে ২৪ লক্ষ কম ছিল।আশ্চর্যজনকভাবে, ২০০২ সালে যখন ৬৯ লক্ষ ভোটারের নাম কমার পর চূড়ান্ত তালিকায় ২৪ লক্ষ নাম বাদ পড়েছিল, তখন তৃণমূল কংগ্রেস সেই প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানিয়েছিল। প্রশ্ন উঠছে, একই ধরনের প্রক্রিয়া আজ যখন চলছে, তখন কেন শাসক দলের পক্ষ থেকে ভিন্ন সুর শোনা যাচ্ছে?