অগ্নিমিত্রার পরিকল্পনায় কলেজ স্ট্রিটের ভোলবদল? প্রতিবাদে সরব তৃণমূল!

কলকাতার প্রাণকেন্দ্র ‘কলেজ স্ট্রিট’কে লন্ডনের বিখ্যাত ‘অক্সফোর্ড স্ট্রিট’-এর আদলে গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছেন রাজ্যের নগর উন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। আর এই প্রস্তাব ঘিরেই এখন রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর তরজা। একদিকে আধুনিকীকরণের স্বপ্ন, অন্যদিকে স্থানীয় হকারদের জীবিকা হারানোর ভয়—সব মিলিয়ে উত্তপ্ত বইপাড়ার পরিবেশ।

কী রয়েছে পরিকল্পনায়? নগর উন্নয়ন মন্ত্রীর প্রস্তাবিত এই মহাপরিকল্পনায় মূলত তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে:

  • যানবাহন-মুক্ত এলাকা: কলেজ স্ট্রিটকে গাড়ি ও দূষণমুক্ত করে কেবল পথচারীদের জন্য তৈরি করা।

  • বিষয়ভিত্তিক বইয়ের দোকান: সুশৃঙ্খলভাবে দোকান সাজিয়ে এলাকাটিকে বিশ্বমানের বইয়ের কেন্দ্রে পরিণত করা।

  • সৌন্দর্যায়ন: রাস্তার দৃশ্যপট আরও আধুনিক ও আকর্ষণীয় করে তোলা।

বিজেপি বনাম তৃণমূল: এই পরিকল্পনাকে বিজেপির পক্ষ থেকে ‘আধুনিক নগর উন্নয়নের ধাপ’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, ঐতিহ্যকে বজায় রেখেই এলাকাটিকে সাইকেল-বান্ধব ও দূষণমুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে তাদের। অন্যদিকে, তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ একে সরাসরি ‘রাজনৈতিক নাটক’ বলে কটাক্ষ করেছেন। তাঁর কথায়, “লন্ডন ও কলকাতার তুলনা চলে না। উন্নয়নের নামে এটা সাধারণ মানুষের জীবনের সঙ্গে খেলা।”

জীবিকা নিয়ে হকারদের উদ্বেগ: উন্নয়নের এই বার্তায় খুশি নন কলেজ স্ট্রিটের বহু হকার ও ছোট ব্যবসায়ীরা। তাঁদের দাবি, রাস্তা সুশৃঙ্খল করার নামে উচ্ছেদের আতঙ্ক গ্রাস করছে তাঁদের। স্থানীয় এক বই বিক্রেতার কথায়, “অক্সফোর্ড স্ট্রিট বানানোর চেয়ে কলেজ স্ট্রিটের পুরনো নিকাশি ব্যবস্থার উন্নতি ও জলাবদ্ধতা দূর করা বেশি জরুরি।”

ভবিষ্যৎ কী? প্রশাসনিক মহলের একাংশ মনে করেন, কলেজ স্ট্রিট কলকাতার ঐতিহ্য। তাই আধুনিকীকরণ করা হলেও, এর স্বকীয়তা এবং ছোট ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা করা বড় চ্যালেঞ্জ। উন্নয়ন এবং ঐতিহ্য—এই দুইয়ের ভারসাম্য কীভাবে রক্ষা করে সরকার, এখন সেটাই দেখার বিষয়।