SIR আতঙ্কের মধ্যেও ব্যতিক্রমী ছবি! ‘মরব-বাঁচব এখানেই’, বলছেন তালিকায় নাম না-থাকা গ্রামবাসীরা

রাজ্য জুড়ে ‘এসআইআর’ (Systematic Identification of Residents) প্রক্রিয়া নিয়ে যখন ভোটার তালিকায় নাম না-থাকা বহু মানুষ আতঙ্কিত হয়ে অনেকে বাংলাদেশ পালানোর চেষ্টা করছেন, ঠিক তখনই এক ব্যতিক্রমী ছবি ধরা পড়ল পূর্ব বর্ধমান জেলার পূর্বস্থলী-২ ব্লকের চাঁপাতলায়। এখানকার বেশিরভাগ গ্রামবাসীই এসআইআর নিয়ে ভীত নন। তাঁদের স্পষ্ট বার্তা: “ভয় পেয়ে আর কী হবে, মরলে এখানে মরব, আর বাঁচলে এখানেই বাঁচব।”
কেন এই সাহস?
পূর্বস্থলীর কালেখাঁতলা-১ পঞ্চায়েতের ১৯৭ নম্বর বুথের প্রায় ৯৫০ ভোটারের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি ভোটারের নাম নেই ২০০২ সালের ভোটার তালিকায়। অথচ এই বাদ যাওয়া বহু মানুষের বাবা, মা বা আত্মীয়ের নাম সেই তালিকায় রয়েছে। এমনকি এঁদের অনেকেই ২০০২ সালের পরেও ভোটার তালিকায় নাম থাকায় বিভিন্ন নির্বাচনে ভোটও দিয়েছেন।
কিন্তু এই গ্রামবাসীদের অনেকেই বাংলাদেশ থেকে অত্যাচারিত হয়ে এই দেশে চলে এসেছেন। তাঁদের কথায়, ওপার বাংলায় আর তাঁদের কিছুই অবশিষ্ট নেই।
গ্রামবাসী নেপাল দাস জানান, “২০০২ সালে আমি কাজ করতে কাটোয়া গিয়েছিলাম বলে নাম ওঠেনি। কিন্তু পরে অবশ্যই নাম ওঠে এবং ভোটও দিই। ছোটবেলায় বাংলাদেশে অত্যাচারিত হয়ে এখানে চলে আসি। এখন আর কোনও ভয় নেই। যাব কোথায়? বাংলাদেশে আমাদের ঘটি-বাটি কিছুই নেই। আর কোথাও যাব না, মরলে এখানে মরব আর বাঁচলে এখানেই বাঁচব। এখন মোদি সরকার যা করার করুক।”
আরেক গ্রামবাসী সুমন দাসের বক্তব্য, “আমাদের ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, রেশন কার্ড সবই আছে। কাজ না-করলে তো খেতে পাব না। 2002 সালে কাজে বাইরে ছিলাম বলে নাম ওঠেনি। এখন ফর্ম ফিলাপ করে জমা দিই। তারপর সরকার যা ভালো বুঝবে করবে।”
প্রশাসনের আশ্বাস, তৃণমূল নেতার উদ্বেগ:
তবে গ্রামে আতঙ্ক একেবারেই নেই তা নয়। নিখিল দাসের মতো কিছু গ্রামবাসী এখনও ভয়ে আছেন। তাঁর চিন্তা, তালিকায় নাম না থাকলে সব বাতিল হয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে কালেখাঁতলা-১ পঞ্চায়েতের তৃণমূল কংগ্রেসের অঞ্চল সভাপতি অজিতকুমার ঘোষ বলেন, “যাঁদের ভোটার তালিকায় নাম নেই তাঁদের কী হবে, সেই নির্দেশিকা স্পষ্টভাবে BLO-দের কাছেও নেই। আমরা চাই যাঁদের ২০০২-এর তালিকায় নাম নেই, অথচ ২০০৪-০৫-এর তালিকায় নাম আছে, তাঁদের প্রতি নির্বাচন কমিশন সহানুভূতিশীল হোক। কারণ কোনও বৈধ ভোটারের নাম যেন তালিকা থেকে বাদ না-যায়, সেটাই কাম্য।”
অন্যদিকে, কালনার মহকুমাশাসক অহিংসা জৈন গ্রামবাসীদের আশ্বস্ত করেছেন। তিনি বলেন, “তালিকায় যাঁদের নাম নেই তাঁদের অহেতুক চিন্তা করার কিছু নেই। বেশকিছু নথি জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া আছে। ফলে তাঁরা যেন অহেতুক আতঙ্কিত না-হন।”