২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আবহে এবার নাগরিকত্ব বিতর্কে বড়সড় বিপাকে পড়লেন কংগ্রেস সাংসদ তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। লখনউয়ের বিশেষ আদালতের রায় খারিজ করে শুক্রবার এলাহাবাদ হাইকোর্ট রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছে। অভিযোগ— ভারতীয় নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও রাহুলের কাছে রয়েছে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব।
আদালতের ঐতিহাসিক নির্দেশ: এলাহাবাদ হাইকোর্টের লখনউ বেঞ্চের বিচারপতি সুভাষ বিদ্যার্থী আজ এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছেন। কর্নাটকের বিজেপি কর্মী এস. বিঘ্নেশ শিশিরের আবেদনের ভিত্তিতে আদালত জানিয়েছে, রাহুলের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগের গুরুত্ব বিচার করে অবিলম্বে এফআইআর নথিভুক্ত করতে হবে। আদালত আরও স্পষ্ট করেছে যে, রাজ্য সরকার চাইলে এই স্পর্শকাতর বিষয়টি তদন্তের জন্য কেন্দ্রীয় সংস্থার (Central Agency) সাহায্যও নিতে পারে।
ঠিক কী অভিযোগ রাহুলের বিরুদ্ধে? আবেদনকারীর দাবি, রাহুল গান্ধী ব্রিটেনের একটি সংস্থায় ডিরেক্টর পদে থাকাকালীন নিজেকে ব্রিটিশ নাগরিক হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। এই অভিযোগে তিনি রাহুলের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS), অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট, পাসপোর্ট অ্যাক্ট এবং ফরেনার্স অ্যাক্ট-এর আওতায় মামলা করার দাবি জানিয়েছিলেন। ইতিপূর্বে লখনউয়ের এমপি/এমএলএ আদালত এই আর্জি খারিজ করে দিলেও আজ হাইকোর্ট সেই সিদ্ধান্ত পাল্টে দিল।
সরগরম রাজনীতি: ভোটের মুখে এই নির্দেশকে ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিজেপি শিবিরের দাবি, সত্য গোপন করে দেশের সাংবিধানিক পদে বসে থাকা দণ্ডনীয় অপরাধ। অন্যদিকে, কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। তাদের দাবি, ২০১৯ সালেও স্বরাষ্ট্র দপ্তর এই বিষয়ে রেকর্ড খতিয়ে দেখেছে, কিন্তু কোনও প্রমাণ মেলেনি।
আইনি প্যাঁচ: ভারতের সংবিধান অনুযায়ী কোনও ব্যক্তি একই সঙ্গে ভারতের এবং অন্য দেশের নাগরিক (Dual Citizenship) থাকতে পারেন না। যদি ব্রিটিশ নাগরিকত্বের প্রমাণ মেলে, তবে রাহুল গান্ধীর সাংসদ পদ শুধু নয়, তাঁর ভারতীয় নাগরিকত্বও সংকটে পড়তে পারে।
আপাতত আদালতের এই নির্দেশের পর রায়বেরেলি বা লখনউয়ের সংশ্লিষ্ট থানায় রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে মামলার প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে। ভোটের বাজারে এই ‘নাগরিকত্ব কার্ড’ কংগ্রেসের জন্য কতটা বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়, এখন সেটাই দেখার।





