লোকসভায় বড়সড় সংসদীয় বিপর্যয়ের মুখে মোদী সরকার। নারীদের অধিকার ও প্রতিনিধিত্ব নিয়ে আনা ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিলটি ভোটাভুটিতে খারিজ হয়ে গেল। গত এক দশকের মধ্যে এই প্রথম সরকারের আনা কোনো বড় মাপের সংশোধনী বিল প্রয়োজনীয় সংখ্যাতত্ত্ব মেলাতে না পেরে মুখ থুবড়ে পড়ল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে এখন তোলপাড়।
কেন পাশ হলো না এই বিল?
সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে লোকসভায় উপস্থিত সদস্যদের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ (Two-Thirds Majority) সমর্থনের প্রয়োজন হয়। কিন্তু ভোটাভুটির সময় দেখা যায়:
শাসক জোট এনডিএ (NDA) প্রয়োজনীয় ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে ব্যর্থ হয়েছে।
ইন্ডিয়া (I.N.D.I.A.) জোটের শরিকরা এককাট্টা হয়ে বিলটির বিরোধিতায় ভোট দিয়েছেন।
বিলের খুঁটিনাটি এবং সংশোধনী নিয়ে বিরোধীদের তোলা আপত্তিগুলি সরকার পক্ষ খণ্ডন করতে পারেনি।
রাহুল গান্ধীর বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়া
বিলটি খারিজ হওয়ার পর সংসদের বাইরে দাঁড়িয়ে উচ্ছ্বসিত প্রতিক্রিয়া দেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, “আজ সংবিধানের জয় হয়েছে। সরকার মহিলাদের প্রতি দরদ দেখালেও আসলে পর্দার আড়ালে সংবিধানের কাঠামো বদলে দেওয়ার চেষ্টা করছিল। বিরোধীরা একজোট হয়ে সেই চক্রান্ত রুখে দিয়েছে।” রাহুল আরও দাবি করেন যে, এই পরাজয় প্রমাণ করে মোদী সরকার এখন আর সংসদের ওপর একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখতে পারছে না।
অস্বস্তিতে বিজেপি শিবির
এই বিল খারিজ হওয়া সরকারের জন্য এক বড়সড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ২০২৬-এর প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে মহিলা ভোটারদের কাছে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ছিল। সরকার পক্ষের দাবি, বিরোধীরা স্রেফ রাজনৈতিক স্বার্থে এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপকে আটকে দিয়েছে। অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শরিকি রাজনীতির চাপে পড়ে এবং বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের জেরেই এই ভরাডুবি।
ভবিষ্যৎ কী?
বিলটি খারিজ হওয়ায় কেন্দ্রকে এখন ফের নতুন করে খসড়া তৈরি করতে হবে অথবা সংসদীয় কমিটির কাছে পাঠাতে হবে। তবে এই হার যে বিরোধী জোটকে আগামী দিনের লড়াইয়ে অনেকটা অক্সিজেন দিল, তা বলাই বাহুল্য।





