লোকসভায় বড়সড় ধাক্কা খেল কেন্দ্র সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক সংবিধান সংশোধনী বিল প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ ভোট জোগাতে না পেরে মুখ থুবড়ে পড়ল। গত এক দশকের মধ্যে এই প্রথম কোনো মেগা সংশোধনী বিল পাশের ক্ষেত্রে সংসদের নিম্নকক্ষে এমন নাটকীয় পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হলো বিজেপি সরকারকে।
যেখানে আটকালো বিলটি
ভারতের সংবিধান অনুযায়ী, যে কোনো প্রধান সংবিধান সংশোধনী বিল পাশের জন্য সংসদের উপস্থিত সদস্যদের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ (Two-Thirds Majority) ভোটের সমর্থন প্রয়োজন। ভোটাভুটি শুরু হতেই দেখা যায়:
শাসক জোট এনডিএ (NDA) প্রয়োজনীয় সংখ্যাতত্ত্ব মেলাতে ব্যর্থ হয়েছে।
ইন্ডিয়া (I.N.D.I.A.) জোটের শরিকরা এককাট্টা হয়ে বিলটির বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন।
জেডিইউ বা টিডিপি-র মতো শরিকদের একটি অংশের অনুপস্থিতি বা সমর্থনহীনতা সরকারের অস্বস্তি আরও বাড়িয়েছে বলে সূত্রের খবর।
বিরোধীদের বিশাল জয়
এই ফলাফল সামনে আসতেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে বিরোধী শিবির। লোকসভার বিরোধী দলনেতা থেকে শুরু করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়—সকলেই এই ঘটনাকে ‘গণতন্ত্রের জয়’ বলে অভিহিত করেছেন। বিরোধীদের দাবি, সরকার একতরফাভাবে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো বদলানোর চেষ্টা করছিল, যা দেশবাসী রুখে দিয়েছে।
রাজনৈতিক তাৎপর্য
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরাজয় মোদী সরকারের জন্য কেবল একটি আইনি ধাক্কা নয়, বরং এক বড়সড় রাজনৈতিক বার্তাও বটে। এটি প্রমাণ করল যে: ১. শরিকি রাজনীতির জমানায় সরকার চাইলেই আর ‘বুলডোজার’ চালিয়ে বিল পাশ করতে পারবে না। ২. বিরোধীরা এখন অনেক বেশি সুসংগঠিত এবং ঐক্যবদ্ধ। ৩. আগামী দিনে সংসদীয় কমিটির গুরুত্ব এবং সরকারের সমঝোতার পথে হাঁটা আবশ্যিক হয়ে দাঁড়াল।
এই বিলটি পাশ না হওয়ায় কেন্দ্রের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা অনির্দিষ্টকালের জন্য থমকে গেল। এখন সরকার এই বিলটি নিয়ে পুনর্বিবেচনার পথে হাঁটে না কি ফের নতুন কোনো কৌশল অবলম্বন করে, সেটাই দেখার।





