QR কোড স্ক্যান করার আগে ৫ সেকেন্ড থামুন! নাহলে নিমেষেই খালি হবে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট

ডিজিটাল লেনদেনের যুগে QR কোড এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু এই সহজ সুবিধাই হয়ে উঠতে পারে বড় বিপদের কারণ। পেট্রোল পাম্প থেকে সবজিওয়ালার দোকান—সবখানেই ওত পেতে আছে সাইবার অপরাধীরা। সামান্য অসাবধানতা বা তাড়াহুড়ো করে স্ক্যান করলেই আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হয়ে যেতে পারে শূন্য। সাইবার জালিয়াতির হাত থেকে বাঁচতে স্ক্যান করার আগে এই ৫টি বিষয়ে সতর্ক হওয়া জরুরি।
সাবধানতা অবলম্বন করুন যে ৫টি ক্ষেত্রে:
QR কোড ভালো করে দেখুন: অনেক সময় দোকানের আসল QR কোডের ওপর জালিয়াতির উদ্দেশ্যে নকল স্টিকার সাঁটিয়ে দেওয়া হয়। কোডটি যদি বেঁকা বা ওপর থেকে নতুন কোনো স্টিকার লাগানো মনে হয়, তবে সঙ্গে সঙ্গে দোকানদারের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হোন।
নাম যাচাই করুন: স্ক্যান করার পর আপনার মোবাইলের স্ক্রিনে যে নামটি দেখাচ্ছে, তা দোকান বা ওই ব্যক্তির সাথে মিলছে কি না অবশ্যই মিলিয়ে নিন। অচেনা নাম দেখালেই পেমেন্ট করবেন না।
অ্যামাউন্টের দিকে নজর দিন: তাড়াহুড়োর চোটে অনেকেই ভুল অ্যামাউন্ট টাইপ করে ফেলেন। ৫০০-এর জায়গায় ৫০০০ পাঠিয়ে দেওয়ার মতো ভুল এড়িয়ে চলতে পেমেন্ট করার আগে টাকার অংক ভালো করে দেখে নিন।
অচেনা QR কোড এড়িয়ে চলুন: হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম বা সোশ্যাল মিডিয়ায় অচেনা কেউ কোনো QR কোড পাঠালে তা স্ক্যান করবেন না। উৎস নিশ্চিত না হয়ে এমন কোড স্ক্যান করা চরম ঝুঁকিপূর্ণ।
লোভনীয় অফারের ফাঁদ: ‘স্ক্যান করলেই ৫০০ টাকা পুরস্কার’—এই ধরনের লোভনীয় মেসেজ বা অফার দেখলেই সাবধান হন। এগুলো আসলে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খালি করার কৌশল মাত্র।
পেমেন্ট হয়ে গেলে কী করবেন? পেমেন্ট সফল হওয়ার পর অবশ্যই ট্রানজ্যাকশন নম্বর বা স্ক্রিনশট সেভ করে রাখুন। জালিয়াতির শিকার হলে দ্রুত নিকটস্থ সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ জানান বা ১৯৩০ (1930) হেল্পলাইন নম্বরে যোগাযোগ করুন।
সম্পাদকীয় পরামর্শ: সাইবার জালিয়াতি থেকে বাঁচতে প্রযুক্তির ব্যবহার করুন, কিন্তু কখনোই তাড়াহুড়ো করবেন না। মনে রাখবেন, আপনার সামান্য কয়েক সেকেন্ডের সতর্কতা আপনার কষ্টার্জিত অর্থকে সুরক্ষিত রাখবে।