IAS-IPS এর দুর্নীতির দিন শেষ? অতিরিক্ত জেলা শাসকের ঘরে মিলল টাকার পাহাড় ও সোনা-রুপোর গয়না!

বিহারে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়ে মেগা অভিযান চালাল ভিজিল্যান্স ব্যুরো। পটনা ও বেগুসরাইয়ে কর্মরত এক হাই-প্রোফাইল আমলা দম্পতির একাধিক ঠিকানায় যৌথ হানা দিয়ে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পত্তির হদিস পেল তদন্তকারীরা। আয়বহির্ভূত সম্পত্তি অর্জনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে নগদ এক কোটি টাকারও বেশি অর্থ, বিপুল পরিমাণ সোনা-রুপোর গয়না, বহু দামি ঘড়ি এবং একাধিক বেনামী ফ্ল্যাট ও জমির নথি উদ্ধার হয়েছে।
ভিজিল্যান্স সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত দম্পতির মধ্যে স্বামী রবীন্দ্র কুমার দ্বিবাকর পটনার অতিরিক্ত জেলা শাসক (সাপ্লাই) এবং তাঁর স্ত্রী কুমারী সুইটি দানাপুরের জেলা সাব-রেজিস্ট্রার পদে কর্মরত রয়েছেন। গত সোমবার এই দুই আধিকারিকের পটনার বাসভবন এবং বেগুসরাইয়ের পৈতৃক বাড়িতে একযোগে তল্লাশি অভিযান চালায় বিহার ভিজিল্যান্স ব্যুরোর একটি বিশেষ দল। পুরো অভিযানের নিবিড় তদারকি করছিলেন স্বয়ং ভিজিল্যান্স বিভাগের ডিআইজি।
তদন্তকারী সূত্রে প্রকাশ, কেবল পটনার ফ্ল্যাট থেকেই প্রায় ৭০ লক্ষ টাকা নগদ এবং প্রায় ৬ লক্ষ টাকা মূল্যের ৪৮টি বিলাসবহুল ঘড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যদিকে, বেগুসরাইয়ের পৈতৃক বাড়ি থেকে আরও প্রায় ৯ লক্ষ টাকা নগদ এবং প্রচুর সোনা ও রুপোর গয়না উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা গণনা করার জন্য ঘটনাস্থলে টাকা গোনার মেশিন পর্যন্ত আনতে হয়। এছাড়া দুই জায়গা থেকেই একাধিক স্থাবর সম্পত্তি, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, ভারী বিনিয়োগ এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত গোপন নথিপত্র বাজোপ্ত করেছেন আধিকারিকেরা।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্ত অতিরিক্ত জেলা শাসক রবীন্দ্র কুমার দ্বিবাকর ও তাঁর স্ত্রীর নামে পটনাতেই দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে, যার সরকারি নথিভুক্ত মূল্য প্রায় ১.০৭ কোটি টাকা। পাশাপাশি, স্ত্রী ও বাবার নামে পটনার বিভিন্ন prime হাসপাতালেও তিনটি বিশাল প্লট বা জমি কেনা হয়েছে, যেগুলির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১.২৮ কোটি টাকা।
তবে এখনই সম্পত্তির চূড়ান্ত হিসাব প্রকাশ করেনি ভিজিল্যান্স কর্তৃপক্ষ। বাজোপ্ত হওয়া নথি, গয়না এবং ডিজিটাল ডেটা সম্পূর্ণ খতিয়ে দেখার পরই এই আয়বহির্ভূত সম্পত্তির প্রকৃত পরিমাণ সামনে আসবে। ভিজিল্যান্সের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সরকারি পদে থেকে এই ধরনের দুর্নীতি বিহারের প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও শোরগোল ফেলে দিয়েছে।