বাংলার ভোটযুদ্ধের মাঝপথেই কি পিছু হঠল ভোট কুশলী সংস্থা আইপ্যাক (I-PAC)? রবিবার সকাল থেকেই একটি খবর দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে যে, পশ্চিমবঙ্গে সমস্ত প্রজেক্ট বন্ধ করে দিয়েছে প্রশান্ত কিশোরের হাতে গড়া এই সংস্থা। এমনকি কলকাতা টিমের কর্মীদের আগামী ২০ দিনের জন্য ছুটিতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। তবে বেলা গড়াতেই এই জল্পনায় জল ঢালল শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস।
তৃণমূলের কড়া বিবৃতি: “ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর”
বেলা ১২টা নাগাদ তৃণমূলের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করে জানানো হয়, আইপ্যাক নিয়ে ছড়িয়ে পড়া খবরটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। তৃণমূলের দাবি:
আইপ্যাকের টিম পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি প্রান্তে দলের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে।
প্রচারের সমস্ত পরিকল্পনা এবং অপারেশন পূর্বনির্ধারিত সূচি মেনেই চলছে।
নির্বাচনের মুখে ভোটারদের বিভ্রান্ত করতেই এই ধরনের ‘ফেক নিউজ’ ছড়ানো হচ্ছে।
“জবাব দেবে ব্যালট বক্স”
তৃণমূলের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে যে, মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি থেকে মানুষের নজর ঘোরাতে পরিকল্পিতভাবে এই প্রচার চালানো হচ্ছে। দল স্পষ্ট করে দিয়েছে, “পশ্চিমবঙ্গ ভুল তথ্য বা ভীতি প্রদর্শনে প্রভাবিত হবে না। তারা ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল ব্যালট বক্সেই এর যোগ্য জবাব দেবে এবং ৪ মে-র ফলাফলই বলে দেবে বাংলার আসল রায় কার দিকে।”
কেন তৈরি হলো জল্পনা?
কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল যে, আইপ্যাক ম্যানেজমেন্ট তাদের কর্মীদের সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। যদিও সেই খবরের সত্যতা যাচাই করেনি অনেক সংবাদমাধ্যমই। তবে তৃণমূলের তরফে তড়িঘড়ি এই সাফাই দেওয়ার ফলে এটি স্পষ্ট যে, নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কোনোভাবেই ব্যাকফুটে যেতে চাইছে না জোড়াফুল শিবির।
বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীও এর আগে আইপ্যাকের বিরুদ্ধে তৃণমূল কর্মীদের ‘ভুয়ো প্রেস কার্ড’ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন। ফলে আইপ্যাককে কেন্দ্র করে শাসক-বিরোধী সংঘাত আগামী কয়েক দিনে আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।





