রবিবার সকালে ওড়িশার বেরহামপুর স্টেশনে ফলকনামা এক্সপ্রেস আসতেই হুলস্থুল পড়ে গেল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রেলে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হলো ৩৪ জন মুসলিম নাবালককে। পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের বাসিন্দা এই কিশোরদের হায়দরাবাদে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলে জানা গেছে। তবে এই যাত্রার নেপথ্যে বড় কোনো রহস্য আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে আরপিএফ (RPF) ও জিআরপি (GRP)।
পরিচয়পত্র ছাড়াই যাত্রা, বাড়ছে সন্দেহ
রেল পুলিশ সূত্রে খবর, উদ্ধার হওয়া কিশোরদের বয়স খুবই কম। তাদের সঙ্গে থাকা দুই যুবক দাবি করেছেন যে, পড়াশোনার জন্য ওই নাবালকদের হায়দরাবাদের একটি মাদ্রাসায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। কিন্তু গোলমাল বাঁধে নথিপত্র নিয়ে। এক আরপিএফ আধিকারিক জানান:
উদ্ধার হওয়া নাবালকদের সঙ্গে কোনো বৈধ পরিচয়পত্র বা নথি ছিল না।
তাদের সঙ্গে থাকা যুবকরা নিজেদের ‘শিক্ষক’ বা ‘অভিভাবক’ দাবি করলেও, তার স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি।
কিশানগঞ্জ ও পশ্চিমবঙ্গ থেকে এদের নিয়ে আসা হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির হস্তক্ষেপ
ঘটনার খবর পেয়েই বেরহামপুর জিআরপি থানায় পৌঁছান চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির (CWC) সদস্যরা। তাঁরা উদ্ধার হওয়া শিশুদের সঙ্গে কথা বলছেন এবং তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন। আপাতত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাচ্চাদের সুরক্ষিত স্থানে পাঠানো হয়েছে।
পাচার চক্রের যোগ?
যদিও পড়াশোনার দাবি করা হচ্ছে, তবে পুলিশ কোনো সম্ভাবনাকেই উড়িয়ে দিচ্ছে না। কোনো পাচার চক্র এই নাবালকদের ভিন রাজ্যে নিয়ে যাচ্ছিল কি না, তা নিশ্চিত হতে সাথে থাকা দুই যুবককে কড়া জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
ভোটের আবহে আন্তঃরাজ্য সীমান্তে এই ধরণের গণ-উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গে। সঠিক তথ্যের খোঁজে পুলিশ এখন বিহার ও বাংলার সংশ্লিষ্ট থানাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে।





