কর্ণাটকের ইয়াদগিরি জেলায় ঘটে গেল বছরের অন্যতম ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনা। শুক্রবার দুপুরে একটি যাত্রীবাহী বাস এবং একটি ছোট গাড়ির (CUV) মুখোমুখি সংঘর্ষে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। এই ঘটনায় একই পরিবারের ৫ শিশুসহ মোট ৯ জন জীবন্ত দগ্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। দুর্ঘটনার তীব্রতা এতটাই ছিল যে, সংঘর্ষের কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই গাড়িটিতে আগুন ধরে যায় এবং যাত্রীরা বের হওয়ার সুযোগটুকুও পাননি।
কীভাবে ঘটল এই দুর্ঘটনা? পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে খবর, কর্ণাটকের সুরপুর তালুকের শান্তপুরা ক্রসের কাছে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। রায়চুর জেলার শিরওয়ার তালুকের বাসিন্দা ওই পরিবারটি একটি ছোট গাড়িতে করে যাচ্ছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, হঠাৎ গাড়ির একটি টায়ার ফেটে যাওয়ায় চালক নিয়ন্ত্রণ হারান এবং বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বেসরকারি এসি বাসের সঙ্গে সরাসরি ধাক্কা লাগে।
জীবন্ত দগ্ধ ৯ জন: সংঘর্ষের সঙ্গে সঙ্গেই গাড়িতে আগুন ধরে যায়। গাড়ির ভেতরে থাকা ১০ জন যাত্রীর মধ্যে ৪ জন (যাদের মধ্যে ২ জন শিশু) ঘটনাস্থলেই অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান। বাকিদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে ইয়াদগিরি ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সে ভর্তি করা হলে সেখানে আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়। মৃতদের মধ্যে ৫২ বছরের কৃষ্ণ নায়েক এবং তাঁর স্ত্রী, ৩ বছরের সিদ্ধার্থ ও দেড় বছরের শ্রীনিধি-সহ মোট ৫টি শিশু রয়েছে। ১০ বছর বয়সী এক শিশু বর্তমানে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।
বাস যাত্রীদের অবস্থা: বেসরকারি বাসটি বেঙ্গালুরু থেকে কালবুরাগি যাচ্ছিল। বাসে থাকা প্রায় ২০ জন যাত্রী বরাতজোরে রক্ষা পেয়েছেন। বাসটিতেও আগুন ধরে গিয়েছিল, তবে চালক ও স্থানীয়দের তৎপরতায় যাত্রীদের নিরাপদে বের করে আনা সম্ভব হয়। পরবর্তীতে দমকল বাহিনী এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
তদন্ত ও শোক: পুলিশ সুপার পৃথ্বীক শঙ্কর জানিয়েছেন, গাড়ি ও বাসটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে। এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকায়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে।
ভোটের মরসুমে দেশজুড়ে যখন ব্যস্ততা তুঙ্গে, তখন কর্ণাটকের এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ফের একবার সড়ক সুরক্ষা ও গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।





