শেয়ারবাজারের অস্থিরতায় নাজেহাল বিনিয়োগকারীরা এখন নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে। বিশেষ করে অবসরপ্রাপ্ত ও সিনিয়র সিটিজেনদের কাছে ফিক্সড ডিপোজিট (FD) আবার সবথেকে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। নির্দিষ্ট মেয়াদে নিশ্চিত আয় আর মূলধনের নিরাপত্তা— এই দুইয়ের মেলবন্ধনেই এখন ভরসা রাখছেন প্রবীণরা।
সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য বিশেষ সুবিধা:
সাধারণ গ্রাহকদের তুলনায় প্রবীণ নাগরিকরা সাধারণত ০.৫০ শতাংশ বেশি সুদ পেয়ে থাকেন। তবে এই সুদের হার নির্ভর করে আরবিআই-এর (RBI) রেপো রেট এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কের পলিসির ওপর। বিশেষজ্ঞরা এখন ‘ল্যাডারিং’ পদ্ধতিতে বিনিয়োগের পরামর্শ দিচ্ছেন। অর্থাৎ সব টাকা একবারে না রেখে বিভিন্ন মেয়াদে ভাগ করে রাখা, যাতে নিয়মিত লিকুইডিটি বজায় থাকে এবং সুদের হারের পরিবর্তনের ঝুঁকিও কমে।
সুদের হারের তুলনা: সরকারি বনাম বেসরকারি ব্যাঙ্ক
বিনিয়োগের আগে দেখে নিন কোন ব্যাঙ্ক কত শতাংশ সুদের অফার দিচ্ছে:
| ব্যাঙ্ক ক্যাটাগরি | ব্যাঙ্কের নাম | সর্বোচ্চ সুদের হার (প্রায়) |
| রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক | পিএনবি, ইউনিয়ন ব্যাঙ্ক, ক্যানারা ব্যাঙ্ক | ৭.১০% |
| এসবিআই, ব্যাঙ্ক অফ বরোদা | ৭.০০% | |
| বেসরকারি ব্যাঙ্ক | ইন্ডাসইন্ড ব্যাঙ্ক | ৭.৫০% |
| কোটাক মহিন্দ্রা, অ্যাক্সিস ব্যাঙ্ক | ৭.২০% – ৭.৩০% | |
| আইসিআইসিআই, এইচডিএফসি | ৭.০০% | |
| স্মল ফাইন্যান্স ব্যাঙ্ক | ESAF স্মল ফাইন্যান্স ব্যাঙ্ক | ৮.৫০% |
| সূর্যোদয়, জনা স্মল ফাইন্যান্স ব্যাঙ্ক | ৮.০০% – ৮.৩০% |
বেশি সুদের হাতছানি বনাম নিরাপত্তা:
স্মল ফাইন্যান্স ব্যাঙ্কগুলি ৮.৫০ শতাংশ পর্যন্ত চড়া সুদের অফার দিলেও, নিরাপত্তার খাতিরে অনেকেই স্টেট ব্যাঙ্ক বা এইচডিএফসি-র মতো বড় ব্যাঙ্কগুলোকেই পছন্দ করছেন। কারণ, বড় ব্যাঙ্কে ঝুঁকি অনেক কম।
ট্যাক্স বাঁচাতে যা করবেন:
মনে রাখবেন, এফডি-র সুদের ওপর আয়কর দিতে হয়। তবে আপনার বার্ষিক আয় যদি করযোগ্য সীমার নিচে হয়, তবে ব্যাঙ্ককে Form 15H জমা দিন। এতে আপনার প্রাপ্ত সুদের ওপর থেকে টিডিএস (TDS) কাটা বন্ধ হবে।
বিনিয়োগের আগে আপনার প্রয়োজন, সময়সীমা এবং ব্যাঙ্কের বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করে নেওয়াটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।





