২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের রণদামামা বেজে গিয়েছে বঙ্গে। আর এই লড়াইয়ের ময়দানে এখন প্রধান অস্ত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘ভাতা’। বাংলার মানুষের ভোট টানতে শাসক থেকে বিরোধী—সব দলই এখন প্রতিশ্রুতির ঝুলি নিয়ে হাজির। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পাল্টা হিসেবে অন্য দলগুলো কী দিচ্ছে? আর এই ভাতার অসম দৌড়ে সবথেকে পিছিয়েই বা কারা? দেখে নিন এক নজরে।
তৃণমূলের টেক্কা: লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও যুবশ্রী বর্তমানে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের তুরুপের তাস হলো ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’। বর্তমানে মহিলারা মাসে ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা পাচ্ছেন। এছাড়া বেকার যুবকদের জন্য রয়েছে ‘যুবশ্রী’ ও ‘ভবিষ্যৎ ক্রেডিট কার্ড’। তৃণমূলের দাবি, তারা কেবল প্রতিশ্রুতি দেয় না, সরাসরি মানুষের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে দিচ্ছে। এটাই তাদের ভোটব্যাঙ্কের প্রধান স্তম্ভ।
বিজেপির পাল্টা চাল: ‘অন্নপূর্ণা’ ও দ্বিগুণ ভাতা বিজেপি তাদের প্রচারে এবং অঙ্গীকারপত্রে বড়সড় চমক দিতে তৈরি। বিজেপির তরফে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, তারা ক্ষমতায় এলে ভাতার পরিমাণ লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের থেকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হবে, যার সম্ভাব্য নাম হতে পারে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’। এছাড়া বেকার যুবকদের জন্য সরাসরি মাসিক ভাতার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে গেরুয়া শিবির।
বাম-কংগ্রেস ও নতুন ‘যুবশক্তি’ বামেদের তরফে এবার কর্মসংস্থানের ওপর জোর দেওয়া হলেও, তারা পিছিয়ে নেই ভাতার লড়াইয়ে। ‘যুবশক্তি’ প্রকল্পের মাধ্যমে বেকারদের মাসিক নিশ্চিত ভাতার গ্যারান্টি দিচ্ছে তারা। তবে সরাসরি নগদ টাকা দেওয়ার চেয়ে স্থায়িত্বের ওপর বেশি নজর দিচ্ছে এই জোট।
সবথেকে পিছিয়ে কোন দল? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভাতার এই হাই-ভোল্টেজ প্রতিযোগিতায় বর্তমানে সবথেকে পিছিয়ে রয়েছে আইএসএফ (ISF) এবং অন্যান্য ছোট দলগুলি। তাদের রাজনৈতিক প্রচারে নির্দিষ্ট কোনো অর্থনৈতিক স্কিম বা ক্যাশ ট্রান্সফার স্কিমের স্পষ্ট রূপরেখা এখনও সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়নি। তৃণমূল বা বিজেপির মতো বড় অংকের ভাতার প্রতিশ্রুতি দিতে না পারায় তারা প্রচারের দৌড়ে খানিকটা ব্যাকফুটে রয়েছে।
শেষ কথা: বাংলার ভোট মানেই এখন পাড়ায় পাড়ায় ‘লক্ষ্মী’ আর ‘সরস্বতী’র লড়াই। একদিকে সরকারি কোষাগারের চাপ, অন্যদিকে ভোটারদের সন্তুষ্ট করা—এই দুয়ের ভারসাম্যে শেষ হাসি কে হাসে, তা সময় বলবে। তবে ভাতার দৌড় যে ২০২৬-এর ভাগ্য নির্ধারণ করবে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।





