২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের উত্তাপের মাঝেই জাতীয় রাজনীতিতে ঘটে গেল এক বিরাট অঘটন। লোকসভায় ডিলিমিটেশন বা আসন পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিল (১৩১তম সংশোধনী) পাশ করাতে ব্যর্থ হলো কেন্দ্রীয় সরকার। প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না মেলায় আজ লোকসভায় বিলটি আটকে গিয়েছে, যা মোদী সরকারের জন্য এক বিশাল রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভোটের অংক ও ফলাফল: শুক্রবার লোকসভায় এই বিলের ওপর ভোটাভুটি হয়। ফলাফল অনুযায়ী:
বিলের পক্ষে ভোট: ২৯৮টি।
বিলের বিপক্ষে ভোট: ২৩০টি।
অনুপস্থিত/ভোটদান থেকে বিরত: ০ জন।
সংবিধান অনুযায়ী, এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী বিল পাশ করতে গেলে উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ (প্রায় ৩৫২টি ভোট) সমর্থনের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সরকার পক্ষ সেই ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে ব্যর্থ হওয়ায় বিলটি বাতিল হয়ে যায়।
কেন এই বিল নিয়ে এত বিতর্ক? এই বিলের মাধ্যমে লোকসভার বর্তমান ৫৪৩টি আসন বাড়িয়ে ৮৫০ বা ৮১৬ করার প্রস্তাব দিয়েছিল সরকার। এর উদ্দেশ্য ছিল ২০২৯ সাল থেকে মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করা। কিন্তু বিরোধী জোট (INDIA) এবং বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতের দলগুলি এর তীব্র বিরোধিতা করে। রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, “এই বিলটি আসলে ভারতের নির্বাচনী মানচিত্র বদলে দেওয়ার এবং দক্ষিণ ও ছোট রাজ্যগুলির গুরুত্ব কমিয়ে দেওয়ার একটি চক্রান্ত।”
সরকারের প্রতিক্রিয়া: সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দীর্ঘ সওয়ালের পরও বিরোধীদের সমর্থন আদায় করা সম্ভব হয়নি। বিলটি আটকে যাওয়ার পর সরকার জানিয়েছে, তারা এখনই এককভাবে এই কাজ এগিয়ে নিয়ে যাবে না। অমিত শাহ আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, আসন বাড়লে কোনও রাজ্যেরই প্রতিনিধি সংখ্যা কমবে না, কিন্তু বিরোধীরা সেই আশ্বাসে ভরসা রাখেনি।
ভোটের বাজারে প্রভাব: এই বিলটি আটকে যাওয়ায় উত্তরবঙ্গের প্রথম দফার ভোটের আগে জাতীয় স্তরে ব্যাকফুটে চলে গেল বিজেপি। বিরোধীরা একে তাদের ‘নৈতিক জয়’ হিসেবে প্রচার করতে শুরু করেছে। বিশেষ করে তৃণমূল এবং কংগ্রেস দাবি করছে, যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো রক্ষা করতেই তারা এই বিলটি রুখে দিয়েছে।
লোকসভায় আজ এই বিল আটকে যাওয়া ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসে এক বড় মোড় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকল।





