CBSE-র ‘বিরাট’ চমক! মুখস্থ করে পাশ নয়, এবার পাল্টে যাচ্ছে পরীক্ষা পদ্ধতি, ছাত্রছাত্রীদের জন্য কী সুখবর?

কেন্দ্রীয় মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড (CBSE) এবার পড়াশোনা এবং পরীক্ষার পদ্ধতিতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে চলেছে। মুখস্থ করে পরীক্ষায় পাশ করার দিন শেষ। এখন ছাত্রছাত্রীদের মনোযোগ দিতে হবে শেখার গভীরে এবং দৈনন্দিন জীবনে তা প্রয়োগ করার ওপর। জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP) ২০২০-এর অধীনে, CBSE একটি নতুন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যার মূল লক্ষ্য হল একবিংশ শতাব্দীর দক্ষতা এবং চ্যালেঞ্জের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করা।
পরীক্ষার ভয় এখন অতীত!
CBSE-র নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরীক্ষাকে আর আতঙ্ক হিসেবে দেখা হবে না, বরং এটিকে পড়াশোনারই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গণ্য করা হবে। এই পরিবর্তনের প্রধান উদ্দেশ্যই হল ছাত্রছাত্রীদের মন থেকে পরীক্ষার ভয় দূর করা।
নতুন শিক্ষানীতিকে কার্যকর করতে CBSE ‘SAFAL’ (স্ট্রাকচার্ড অ্যাসেসমেন্ট ফর অ্যানালাইজিং লার্নিং) নামে একটি বিশেষ অ্যাসেসমেন্ট বা মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করেছে। এর মাধ্যমে তৃতীয়, পঞ্চম এবং অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়াদের বোঝার এবং বিশ্লেষণাত্মক চিন্তাভাবনার ক্ষমতা পরীক্ষা করা হবে। এর মূল লক্ষ্য হল – শিক্ষার্থীরা পাঠ্য বিষয়বস্তু সঠিকভাবে উপলব্ধি করছে কিনা এবং তাদের কোথায় উন্নতির প্রয়োজন, তা চিহ্নিত করা।
যোগ্যতা-ভিত্তিক পরীক্ষা: এগিয়ে যাওয়ার নতুন ধাপ
জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ বলছে, পরীক্ষার পদ্ধতি এমন হওয়া উচিত যা শিশুদের এগিয়ে যেতে সাহায্য করে। সেই লক্ষ্যেই CBSE ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত যোগ্যতা-ভিত্তিক পরীক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছে। এই নতুন পদ্ধতিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে শিক্ষার্থীর বোধগম্যতা ও প্রয়োগ ক্ষমতার ওপর।
বিজ্ঞান, গণিত এবং ইংরেজির মতো মূল বিষয়গুলিতে এই নতুন অ্যাসেসমেন্ট পদ্ধতি প্রয়োগ করা হবে, যাতে ছোটবেলা থেকেই এই বিষয়গুলির প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ে এবং তাদের মন থেকে বিষয়গুলির ভয় দূর হয়। এই পরিবর্তন কেবল মুখস্থের অভ্যাস নয়, বরং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা এবং ব্যবহারিক জ্ঞানকে আরও মজবুত করবে। শিক্ষাবিদদের মতে, এই পদক্ষেপ ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থাকে এক নতুন দিগন্তের দিকে নিয়ে যাবে।