দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বাংলার নির্বাচনী রাজনীতিতে ফের ‘সেকেন্ড বয়’ সিপিআইএম। ফলতা পুনর্নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল। একদিকে বিজেপি যেখানে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে আধিপত্য ধরে রেখেছে, অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের চতুর্থ স্থানে নেমে যাওয়া এবং বামেদের দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসা বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ফলতার ভোটের খতিয়ান:
নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ফলতা পুনর্নির্বাচনে ভোটের হার ছিল চোখে পড়ার মতো (৮৮ শতাংশের বেশি)। দলের প্রাপ্ত ভোটের হার নিম্নরূপ:
| দল | প্রাপ্ত ভোট | ভোটের হার (%) |
| BJP | ১,৪৯,৬৬৬ | ৭১.২ |
| CPIM | ৪০,৬৪৫ | ১৯.৩ |
| কংগ্রেস | ১০,০৮৪ | ৪.৮ |
| TMC | ৭,৭৮৩ | ৩.৭ |
কেন তাৎপর্যপূর্ণ এই জয়?
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ফলাফলের নেপথ্যে রয়েছে সংখ্যালঘু ভোটের মেরুকরণ। ফলতায় প্রায় ৩০ শতাংশ মুসলিম ভোট রয়েছে। এতদিন এই ভোটব্যাঙ্ক তৃণমূলের দখলে থাকলেও, এবার তারা বিকল্প হিসেবে বামেদেরই বেছে নিয়েছে। সিপিআইএম নেতা ময়ূখ বিশ্বাসের দাবি অনুযায়ী, ২৮৫টি বুথের মধ্যে ৫৮টিতে বিজেপিকেও ছাপিয়ে এগিয়ে আছে বামেরা। এমনকি একটি বুথে উভয় দলের ভোট সমান।
কী বলছে রাজনৈতিক মহল?
তৃণমূলের প্রাক্তন নেতা ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গীরের অনুপস্থিতি এবং তৃণমূলের সংগঠন দুর্বল হওয়ার সুযোগে সংখ্যালঘু ভোটাররা যে দ্রুত বামপন্থীদের দিকে ঝুঁকেছেন, তা ফলতার ফলাফল স্পষ্ট করেছে। সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এই ফলাফলকে ‘বামপন্থার পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “তৃণমূল বরফের মতো গলে যাচ্ছে আর লালঝাণ্ডার শক্তি বাড়ছে। মানুষ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা পেলে কী হতে পারে, ফলতা তার প্রমাণ।”
তৃণমূলের দাপট কমিয়ে যেভাবে বামেরা বিজেপির মূল প্রতিপক্ষ হিসেবে উঠে আসছে, তা আগামী দিনে পঞ্চায়েত বা বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
পাঠকদের জন্য তথ্য: বাংলার রাজনীতির এই বড় পরিবর্তনের বিষয়ে আপনি কী মনে করেন? তৃণমূলের এই পতনের কারণ কি শুধুই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব? আপনার মতামত কমেন্ট বক্সে আমাদের জানান এবং রাজ্যের সবশেষ রাজনৈতিক আপডেট পেতে ডেইলিহান্ট পেজটি ফলো করুন।





