“BJP করায় রেহাই পেলেন না স্ত্রীও” জুটলো বেধড়ক মার, তৃণমূলের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ!

নির্বাচনের পরবর্তী সময়েও হিংসার আগুনে জ্বলছে বাংলা! এবার বিজেপি কর্মী ও তাঁর স্ত্রীকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠল মালদহের বৈষ্ণবনগর থানার কুম্ভিরা গ্রাম পঞ্চায়েতের হাদিনগর এলাকা। অভিযোগের তির স্থানীয় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের দিকে। এই ঘটনায় জখম হয়েছেন বিজেপি কর্মী ও তাঁর স্ত্রী, দুজনেই বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, বিধানসভা নির্বাচনের সময় থেকেই তৃণমূলকে ভোট দেওয়ার জন্য তাঁদের ওপর লাগাতার চাপ দেওয়া হচ্ছিল। তাঁরা বিজেপি সমর্থক হওয়ায় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা ক্রমাগত হুমকি দিচ্ছিল বলেও দাবি। অভিযোগ, নির্বাচন মিটে গেলেও এই বিদ্বেষ কমেনি। হঠাৎ করেই এদিন রাতে একদল দুষ্কৃতী হাসুয়া, লাঠি ও লোহার রড নিয়ে বিজেপি কর্মীর বাড়ি ঘেরাও করে। বাড়ির বাইরে বেরোতেই দম্পতির ওপর অতর্কিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে তারা। অভিযোগ, বিজেপি কর্মীর স্ত্রীকে লক্ষ্য করে বেধড়ক মারধর করা হয়, যার ফলে তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে। পাশাপাশি, দুষ্কৃতীরা বাড়ি লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি করে বলেও অভিযোগ উঠেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যে এই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যা ঘিরে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
আহত বিজেপি কর্মীর মেয়ের বয়ান অনুযায়ী, “বাবা-মা বাড়ির বাইরে বেরোতেই তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাঁদের ঘিরে ফেলে এবং মাটিতে ফেলে নির্মমভাবে মারধর করে। আমরাও ঘরবন্দি ছিলাম, আমাদেরও ভয় দেখানো হয়। পরে পুলিশ এসে তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। আমরা অভিযুক্তদের নাম উল্লেখ করে থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি। আমরা চাই, দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তি দেওয়া হোক।”
এই ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। দক্ষিণ মালদা বিজেপির সহ-সভাপতি তারক ঘোষ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “বিজেপি সমর্থক পরিবারের ওপর যেভাবে তৃণমূলের গুন্ডারা হামলা চালিয়েছে, তার তীব্র নিন্দা করি। প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা দেওয়া হয়েছে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করার জন্য। তৃণমূল এখনো হার স্বীকার করতে পারছে না, তাই এই ধরনের অমানবিক কর্মকাণ্ড ঘটাচ্ছে।”
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস নেতা বিশ্বজিৎ ঘোষ সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এই ঘটনার সঙ্গে আমাদের দলের কোনো যোগ নেই। কিছু হলেই তৃণমূলের নাম জুড়ে দেওয়া হচ্ছে। আমরা যতদূর শুনেছি, এটি সম্পূর্ণভাবে দুই প্রতিবেশীর মধ্যে গ্রাম্য বিবাদের জেরে ঘটেছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে, প্রকৃত সত্য সামনে আসবেই।” বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বৈষ্ণবনগর থানার পুলিশ বাহিনী এলাকায় মোতায়েন রয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।