রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ‘তোলাবাজি মুক্ত’ বাংলার স্বপ্ন দেখিয়েছে বিজেপি। কিন্তু বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অভিযোগ উঠছে যে, বিজেপির পতাকা ব্যবহার করেই একশ্রেণির মানুষ ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের কাছে তোলা আদায় করছে। এই পরিস্থিতিতে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে ফের একবার কড়া বার্তা দিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বিজেপির নাম ভাঙিয়ে তোলাবাজি করলে রেহাই নেই, কঠোর আইনি শাস্তির মুখে পড়তে হবে।
কী বললেন শমীক ভট্টাচার্য? কলকাতায় ব্যবসায়ীদের এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “যদি কেউ বিজেপির পতাকা নিয়ে কারখানা বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে গিয়ে চাঁদা চায় বা তোলাবাজি করে, তবে মনে রাখবেন, তাদের জায়গা জেলে।” তিনি আরও বলেন, বিজেপির কোনো শ্রমিক সংগঠন (ট্রেড ইউনিয়ন) বা ছাত্র সংগঠন নেই। তাই দলের নাম করে এমন কোনো কাজ করা চলবে না।
অভিযোগ জানানোর উপায়: জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং তোলাবাজির অপসংস্কৃতি রুখতে শমীক পরামর্শ দিয়েছেন, “যদি কেউ বিজেপির নাম করে টাকা দাবি করে, তবে সঙ্গে সঙ্গে নিকটবর্তী পার্টি অফিসে অভিযোগ জানান। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের জেলে পাঠানো হবে।”
কেন এই কঠোর অবস্থান? তৃণমূল সরকারের আমলে তোলাবাজির অভিযোগ নিয়ে রাজ্যজুড়ে যে অস্থিরতা ছিল, তার অবসানের প্রতিশ্রুতি দিয়েই বিজেপি ২০২৬-এর নির্বাচনে বিপুল জনসমর্থন পেয়েছে। ২০৮টি আসন জিতে সরকার গঠনের পর, সাধারণ মানুষের সেই আস্থার মর্যাদা রাখা এখন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ। শাসকদল হিসেবে বিজেপি কোনোভাবেই তৃণমূলের পুরনো ‘অপসংস্কৃতি’ বহন করতে চায় না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের পর তৃণমূলের হাত থেকে বিজেপির হাতে ক্ষমতা বদলের এই সময়ে ‘গ্রাসরুট লেভেলে’ বা নিচুতলার কিছু কর্মী-সমর্থকদের দৌরাত্ম্য নজরে এসেছে শীর্ষ নেতৃত্বের। সেই দৌরাত্ম্য শুরুতেই দমন করতে শমীক ভট্টাচার্যের এই কড়া বার্তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। এখন দেখার, শীর্ষ নেতৃত্বের এই হুঁশিয়ারি নিচুতলার কর্মীদের কতটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, নাকি এই প্রবণতা রুখতে প্রশাসনিকভাবেও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হয় বিজেপি সরকারকে।





