Apple-এর কোটি টাকার চাকরি ছেড়ে এখন অটো চালক! নিজ স্বাধীনতার অবিশ্বাস্য গল্প!

বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে স্বপ্নপূরণ। বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংস্থা ‘অ্যাপল’-এ (Apple) চাকরি, মোটা অঙ্কের বেতন আর বিলাসবহুল জীবন। কিন্তু এই চাকচিক্যের আড়ালেই তিলে তিলে শেষ হয়ে যাচ্ছিলেন রাকেশ। আজ তিনি বেঙ্গালুরুর রাস্তায় ইলেকট্রিক অটো চালান। শুনতে অবাক লাগলেও, এই অটো চালিয়েই রাকেশ খুঁজে পেয়েছেন জীবনের সেই সুখ, যা কোটি টাকার প্যাকেজ তাঁকে দিতে পারেনি।

“টাকা ছিল, কিন্তু শান্তি ছিল না”

রাকেশের কথায়, কর্পোরেট দুনিয়ায় আত্মসম্মানের কোনো জায়গা নেই। তিনি নিজেকে স্রেফ এক ‘উচ্চবিত্ত ক্রীতদাস’ হিসেবে অনুভব করতে শুরু করেছিলেন। সারাদিন কাজ আর টক্সিক প্রেসারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন তিনি। রাকেশ জানান,

“প্রতিদিন অন্যকে খুশি করতে করতে নিজেকেই ভুলে গিয়েছিলাম। বাড়িতে স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার শক্তিটুকু থাকত না। নিজেকে একা করে ফেলেছিলাম।”

NIMHANS-এ চিকিৎসা এবং নরকযন্ত্রণা

মানসিক চাপ এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে রাকেশকে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হয়। বেঙ্গালুরুর বিখ্যাত NIMHANS-এ চলে তাঁর চিকিৎসা। টানা ৭-৮ ঘণ্টা একই বিষয় নিয়ে ভাবা, অসহ্য মাথা যন্ত্রণা আর একাকিত্বে তাঁর জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল। কিন্তু রাকেশ ঠিক করেন, শুধু ওষুধের ওপর নির্ভর করে তিনি বাঁচবেন না।

ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই: ১৫ কেজি ওজন কমিয়ে রুপো জয়

নিজের হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে মার্শাল আর্টস শুরু করেন রাকেশ। কঠোর পরিশ্রম আর ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং করে শরীর থেকে ঝরিয়ে ফেলেন ১৫ কেজি বাড়তি ওজন। শুধু তাই নয়, রাজ্যস্তরের মার্শাল আর্টস প্রতিযোগিতায় রুপোর পদকও জেতেন তিনি। এই জয়ই তাঁকে জীবনের নতুন দিশা দেখায়।

টয়লেট পরিষ্কার থেকে খাবার ডেলিভারি: কাজকে ভয় পাননি রাকেশ

অ্যাপল-এর প্রাক্তন কর্মী হয়েও কোনো কাজকে ছোট মনে করেননি তিনি। ঘুরে দাঁড়ানোর পথে তিনি:

  • খাবার ডেলিভারি করেছেন।

  • বাইক ট্যাক্সি চালিয়েছেন।

  • এমনকি জিমের সহকারী হিসেবে মেঝে ও টয়লেটও পরিষ্কার করেছেন।

রাকেশের মতে, এই কাজগুলোই তাঁকে বিনয় শিখিয়েছে এবং পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করার মানসিক শক্তি দিয়েছে।

অটোর স্টিয়ারিংয়েই এখন আসল আনন্দ

বিগত ৪ বছরের কঠিন লড়াইয়ের পর রাকেশ এখন বেঙ্গালুরুতে নিজের ইলেকট্রিক অটো চালান। অটোর স্টিয়ারিংয়ে হাত রাখলেই তিনি খুঁজে পান সেই স্বাধীনতা, যা অ্যাপলের এসি কেবিনে ছিল না। অটোর প্যাডেল ঘোরানোর পাশাপাশি এখন তিনি মন খুলে নাচেন এবং ছবিও আঁকেন।

রাকেশের এই জীবনযুদ্ধ প্রমাণ করে দিল যে, সামাজিক মর্যাদা বা বড় বেতনই শেষ কথা নয়; দিনশেষে নিজের মানসিক শান্তি এবং আত্মসম্মানই হলো জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy