AI-প্রযুক্তিতে কেল্লাফতে! ওয়েটিং লিস্ট কনফার্ম হবে কি না, বলে দেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

ভারতীয় রেলের টিকিট বুকিং ব্যবস্থায় বড়সড় আপগ্রেড আনতে চলেছে রেল মন্ত্রক। ১৯৮৬ সাল থেকে চলে আসা বর্তমান রিজার্ভেশন সিস্টেমকে বিদায় জানিয়ে অগাস্ট মাস থেকেই চালু হতে চলেছে নতুন প্যাসেঞ্জার রিজার্ভেশন সিস্টেম। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, বর্তমান ডিজিটাল যুগের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে যাত্রী পরিষেবাকে আরও দ্রুত ও নিখুঁত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নতুন সিস্টেমের মূল আকর্ষণ:

  • এআই (AI) প্রযুক্তির ব্যবহার: এই আপগ্রেডেশনের সবচেয়ে বড় চমক হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI। নতুন সিস্টেমে টিকিট কাটার সময় যাত্রী নিজেই জানতে পারবেন যে, তাঁর ওয়েটিং লিস্টের টিকিট কনফার্ম হওয়ার সম্ভাবনা ঠিক কতটা। রেলের দাবি, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ৯৪ শতাংশ ক্ষেত্রেই নির্ভুল পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব।

  • দ্রুত ও আধুনিক বুকিং: বর্তমান ব্যবস্থায় অনলাইনে টিকিট কাটার সময় অনেক যাত্রীই বিভিন্ন জটিলতায় পড়েন। নতুন অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এই সমস্যা সমাধান করবে এবং অনলাইনে টিকিট বুকিংয়ের ক্রমবর্ধমান চাপ সামলাতে সক্ষম হবে।

  • যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য: টিকিট বুকিং ও বাতিল করা থেকে শুরু করে ট্রেনের লাইভ লোকেশন—সবকিছুই এখন আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ হবে।

কেন এই পরিবর্তন? বর্তমানে ৮৮ শতাংশ টিকিটই ডিজিটাল পদ্ধতিতে বুক করা হয়। যাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে রেল কর্তৃপক্ষ ২০০২ সালে ইন্টারনেটে টিকিট বুকিং চালু করেছিল। তবে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সেই ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের প্রয়োজন ছিল। পাশাপাশি, সাম্প্রতিককালে চালু হওয়া ‘রেলওয়ান’ অ্যাপের ব্যাপক জনপ্রিয়তা (এক বছরের কম সময়ে ৩.৫ কোটির বেশি ডাউনলোড) প্রমাণ করে যে যাত্রীরা এখন ডিজিটাল পরিষেবার ওপরই বেশি ভরসা রাখেন।

রেলমন্ত্রীর নির্দেশ: রেল ভবনে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, এই নতুন সিস্টেম চালুর সময় যাতে সাধারণ যাত্রীদের বিন্দুমাত্র অসুবিধার সম্মুখীন হতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

এই পরিবর্তনের ফলে ভারতীয় রেলের টিকিট বুকিং ব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে। ওয়েটিং লিস্টের অনিশ্চয়তা আর থাকবে না—এমনটাই মনে করছে রেল কর্তৃপক্ষ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy