আম আদমি পার্টিতে (AAP) বিদ্রোহের সুর কি তবে আরও চড়া হচ্ছে? দলের রাজ্যসভার সহকারী দলনেতা পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর রাঘব চড্ডার পাল্টাচাল এখন দিল্লির রাজনীতির অন্দরে সবচেয়ে বড় চর্চার বিষয়। শোনা যাচ্ছে, এই পুরো বিদ্রোহের মূলে রয়েছে একটি বিশেষ সংখ্যা— ‘৭’। আর এই সংখ্যার ফাঁসেই আপাতত হাত-পা বাঁধা অরবিন্দ কেজরীওয়ালের।
কী এই ৭ সংখ্যার অঙ্ক? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যসভায় আম আদমি পার্টির মোট সাংসদ সংখ্যা ১০। ভারতের দলবদল বিরোধী আইন বা Anti-Defection Law অনুযায়ী, কোনো দলের সংসদীয় দল ভাঙতে হলে বা কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা থেকে বাঁচতে হলে অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন। রাঘব চড্ডা যদি নিজের দিকে ৭ জন সাংসদকে (১০ জনের দুই-তৃতীয়াংশ) টেনে নিতে পারেন, তবে কেজরীওয়াল চাইলেও তাদের সাংসদ পদ খারিজ করতে পারবেন না।
কেন ব্যবস্থা নিতে পারছেন না কেজরীওয়াল?
দলবদল আইনের সুরক্ষা: যদি রাঘব চড্ডার সাথে অন্তত ৭ জন বিদ্রোহী সাংসদ জোটবদ্ধ হন, তবে তারা রাজ্যসভায় আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারেন। সেক্ষেত্রে দল তাদের বিরুদ্ধে ‘হুইপ’ অমান্যের দায়ে ব্যবস্থা নিতে পারবে না।
সংসদে কণ্ঠরোধের চেষ্টা: দল ইতিমধ্যেই রাজ্যসভা সচিবালয়কে জানিয়েছে যাতে রাঘবকে বলার সময় না দেওয়া হয়। কিন্তু রাঘবের পাল্টা বার্তা, “আমাকে চুপ করানো হয়েছে, পরাজিত করা যায়নি।” এই আত্মবিশ্বাসের মূলে ওই ৭ সাংসদের প্রচ্ছন্ন সমর্থন রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
পাঞ্জাব ফ্যাক্টর: বিদ্রোহী সাংসদদের বড় অংশই পাঞ্জাবের প্রতিনিধি। এদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিলে পাঞ্জাব সরকারের স্থিতিশীলতা বা সেখানে দলের জনপ্রিয়তায় বড় ধাক্কা লাগতে পারে, যা এই মুহূর্তে কেজরীওয়ালের পক্ষে নেওয়া সম্ভব নয়।
রাঘব চড্ডার অবস্থান: পদ হারানোর পর রাঘব চড্ডা নিজের এক্স (পূর্বতন টুইটার) হ্যান্ডেলে একটি ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন যে, তিনি বরাবরই জনগণের হয়ে কথা বলেছেন এবং সেই কারণেই হয়তো তাকে কোণঠাসা করার চেষ্টা চলছে। তার এই “Silenced but not defeated” (নীরব কিন্তু পরাজিত নই) বার্তা আসলে দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে এক প্রকার চ্যালেঞ্জ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
আপ-এর অন্দরের এই ক্ষমতার লড়াই এখন কোন দিকে মোড় নেয়, এবং রাঘবের ‘৭-এর অঙ্ক’ সত্যিই কেজরীওয়ালের দাপটকে চ্যালেঞ্জ করে কি না, সেটাই এখন দেখার।





