“৯ বম রাজ্য হিসেবে ইতিহাস গড়ল বাংলা”-মোদীর জাদুতে তাসের ঘরের মতো ভাঙল তৃণমূলের দুর্গ!

তেইশের পঞ্চায়েত কি চব্বিশের লোকসভা—সব হিসেব ওলটপালট করে দিয়ে ২০২৬-এর মে মাসে বাংলার রাজনীতিতে রচিত হলো এক নতুন ইতিহাস। দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল জমানার অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের কুর্সিতে এবার বিজেপি। ৯ মে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। মোদী জমানার এক যুগ পূর্ণ হওয়ার মুখে বাংলাই হলো নবম রাজ্য, যেখানে এই প্রথমবার ক্ষমতায় এল ভারতীয় জনতা পার্টি।

২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে বসার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিজেপির জয়যাত্রা শুরু হয়েছিল। বিশেষ করে যে রাজ্যগুলোতে বিজেপি আগে কখনও ক্ষমতায় ছিল না, সেখানে এক এক করে থাবা বসিয়েছে গেরুয়া শিবির। সেই তালিকায় নবম সংযোজন পশ্চিমবঙ্গ।

এক নজরে দেখে নেওয়া যাক ২০১৪ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত বিজেপির সেই ঐতিহাসিক জয়যাত্রা:

২০১৪: হরিয়ানা (মনোহরলাল খট্টর) ও মহারাষ্ট্র (দেবেন্দ্র ফড়নবিশ – জোট)।

২০১৬: অসম (সর্বানন্দ সোনওয়াল) ও অরুণাচল প্রদেশ (প্রেমা খাণ্ডু)।

২০১৭: মণিপুর (এন বীরেন সিং)।

২০১৮: ত্রিপুরা (বিপ্লব কুমার দেব)।

২০২৪: ওড়িশা (মোহনচরণ মাঝি)।

২০২৬: বিহার (সম্রাট চৌধুরী) ও পশ্চিমবঙ্গ (শুভেন্দু অধিকারী)।

২৯৪-এর লড়াইতে ২০৭: দুর্ভেদ্য দুর্গ জয়

বাংলার রাজনীতিতে একসময় বিজেপিকে ‘ব্রাহ্মণ্যবাদী’ বা ‘হিন্দি-বলয়ের দল’ তকমা দিয়ে দূরে সরিয়ে রাখা হতো। কিন্তু ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৭টি আসনে নিরঙ্কুশ জয় ছিনিয়ে নিয়ে সেই মিথ ভেঙে দিলেন শুভেন্দু অধিকারীরা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং দুর্নীতি বিরোধী ইস্যুকে হাতিয়ার করেই সাধারণ মানুষের ড্রয়িং রুমে ঢুকে পড়েছে বিজেপি।

মোদীর গ্যারান্টি ও উন্নয়নের রাজনীতি

বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালার দাবি, এই জয় আসলে প্রশাসনিক দক্ষতা এবং মানুষের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের ফসল। তাঁর কথায়, “মোদীর নেতৃত্বে মানুষ এখন সেই সব রাজ্যেও বিজেপিকে গ্রহণ করছে, যেখানে আমাদের কোনো অস্তিত্ব ছিল না।”

অন্যদিকে, দলের আরেক মুখপাত্র তুহিন এ সিনহা এই সময়কে বিজেপির ‘স্বর্ণযুগ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। ৩৭০ ধারা বিলোপ, সিএএ এবং রামমন্দিরের মতো আবেগকে কাজে লাগিয়েই যে বিজেপি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে, তা স্পষ্ট। তাঁর পরবর্তী লক্ষ্য এখন দক্ষিণ ভারত। তুহিনবাবুর দাবি, “তামিলনাড়ু ও কেরালাতেও খুব দ্রুত গেরুয়া ঝড় আছড়ে পড়বে।”

শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে কালীঘাটের মন্দিরের আবহ থেকে শুরু করে ধুনুচি নাচ—সব মিলিয়ে ‘সোনার বাংলা’ গড়ার যে শপথ শুভেন্দু অধিকারী নিলেন, তা আগামী পাঁচ বছরে বাংলার ভাগ্য কতটা বদলাতে পারে, এখন সেটাই দেখার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy