বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে এক নতুন সূর্যোদয় ঘটেছে। দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে ২০৭টি আসন নিয়ে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। আর এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের রেশ পৌঁছে গেল বাংলাতেও। পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানালেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা।
X-এ বিশেষ বার্তা আওয়ামী লীগের শনিবার কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপস্থিতিতে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী। এরপরই আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ একটি বিশেষ বার্তা পোস্ট করা হয়। সেখানে জানানো হয়েছে, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে বিজেপির এই নির্ণায়ক জয়ের জন্য শুভেন্দুকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি নতুন মন্ত্রিসভার সকল সদস্যের সাফল্য ও সুস্বাস্থ্য কামনা করেছেন।
পুরানো বন্ধুত্বের নতুন প্রতিফলন? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই অভিনন্দন বার্তাটি নিছক সৌজন্যের চেয়েও বেশি কিছু। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ‘অগাস্ট আন্দোলনের’ উত্তাল সময়ে যখন শেখ হাসিনা কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন ছিলেন, তখন শুভেন্দু অধিকারী প্রকাশ্যেই তাঁকে সমর্থন জানিয়েছিলেন। শুভেন্দু বলেছিলেন, “শেখ হাসিনাই বাংলাদেশের বৈধ প্রধানমন্ত্রী।” আজ ক্ষমতার হাতবদলের দিনে হাসিনার এই বার্তা সেই পুরোনো বন্ধুত্বেরই এক তাৎপর্যপূর্ণ প্রতিদান বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
হাসিনার বার্তায় উন্নয়নের আশাপ্রকাশ শেখ হাসিনা তাঁর বার্তায় আশা প্রকাশ করেছেন যে, শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গ উন্নয়নের শিখরে পৌঁছাবে। পাশাপাশি, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক রয়েছে, তা আগামী দিনে আরও সুদৃঢ় হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই অভিনন্দন? পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যে রয়েছে গভীর সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক যোগসূত্র। সীমান্ত বাণিজ্য থেকে শুরু করে নদী জলবণ্টন— একাধিক অমীমাংসিত ও স্পর্শকাতর বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর ঢাকা তথা বাংলার রাজনৈতিক মহল কীভাবে এই পরিবর্তনকে গ্রহণ করে, সেদিকে নজর ছিল দিল্লিরও। শেখ হাসিনার এই ইতিবাচক বার্তা দুই বাংলার আগামীর কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ করল।
শনিবারের এই মেগা শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অমিত শাহ, রাজনাথ সিং এবং বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে শুভেন্দুর অভিষেক যেমন রাজকীয় ছিল, তেমনই আন্তর্জাতিক স্তরের এই শুভেচ্ছা তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিল। বাংলার মসনদে গেরুয়া শিবিরের প্রথম মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কের সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।





