ভূ-রাজনীতির রঙ্গমঞ্চে আরও একবার বড়সড় পটপরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অতি সম্প্রতি চিন সফর সেরে ওয়াশিংটনে ফেরার পরই তাইওয়ান ইস্যুতে সম্পূর্ণ উল্টো সুর শোনা গেল তাঁর গলায়। ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, আমেরিকার থেকে প্রায় সাড়ে নয় হাজার মাইল দূরে অবস্থিত তাইওয়ানের জন্য মার্কিন সেনা পাঠিয়ে যুদ্ধ জড়ানোর কোনো যৌক্তিকতা তিনি দেখছেন না। ট্রাম্পের এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পর কার্যত বজ্রাঘাত নেমে এসেছে তাইপেই প্রশাসনের ওপর।
দীর্ঘদিন ধরেই তাইওয়ানকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করে আসছে বেজিং। অন্যদিকে, বিগত মার্কিন প্রশাসনগুলি বরাবরই তাইওয়ানের সার্বভৌমত্ব রক্ষার বিষয়ে সুর চড়িয়ে এসেছে এবং প্রয়োজনে সামরিক সাহায্যের আশ্বাসও দিয়েছে। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের মসনদে ফেরার পর থেকেই এই সমীকরণ দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে, যার চূড়ান্ত প্রতিফলন মিলল তাঁর এই সাম্প্রতিকতম মন্তব্যে।
দূরত্বের দোহাই ও ট্রাম্পের মার্কিন-প্রথম নীতি
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, “বাস্তবতা আমাদের বুঝতে হবে। আমেরিকা থেকে তাইওয়ানের দূরত্ব প্রায় ৯,৫০০ মাইল। অন্যদিকে চিন থেকে তাইওয়ানের দূরত্ব মাত্র ১০০ মাইলের কাছাকাছি। এত দূর উড়ে গিয়ে অন্যের ভূখণ্ড রক্ষা করার দায়িত্ব আমেরিকার একার নয়।”
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে ট্রাম্প তাঁর পুরোনো ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ বা ‘আমেরিকা প্রথম’ নীতিকেই নতুন করে সামনে আনলেন। তিনি স্পষ্ট করে দিতে চাইলেন যে, মার্কিন নাগরিকদের করের টাকা এবং সেনাদের জীবন সুদূর এশিয়ার কোনো দ্বীপের সুরক্ষার জন্য বাজি রাখতে তিনি রাজি নন।
বেজিং সফরের পরেই কেন এই ভোলবদল?
কূটনৈতিক মহলের বড় অংশ মনে করছে, ট্রাম্পের এই ভোলবদলের নেপথ্যে রয়েছে তাঁর সাম্প্রতিক চিন সফর। চিনা কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই নরম মনোভাব আসলে বেজিংয়ের এক বিরাট কূটনৈতিক জয়। ট্রাম্প হয়তো চিনের সঙ্গে কোনো বড়সড় বাণিজ্য চুক্তির বিনিময়ে তাইওয়ান ইস্যু থেকে নজর ঘুরিয়ে নেওয়ার কৌশল নিয়েছেন।
ট্রাম্পের এই এক লাইনের বিবৃতিতে আমেরিকার বিশ্বস্ত মিত্র হিসেবে পরিচিত তাইওয়ানের অন্দরে তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। কারণ, মার্কিন ছাতার অভাব ঘটলে যেকোনো মুহূর্তে চিনা রেড আর্মি তাইওয়ান দখল করে নিতে পারে—এমন আশঙ্কা এখন আরও তীব্র হলো। বিশ্ব রাজনীতির এই মেগা ডেভেলপমেন্টের প্রতি মুহূর্তের আপডেটের জন্য চোখ রাখুন ডেইলিয়ান্ট-এর পাতায়।





