বর্ষার আগমন বা আবহাওয়ার পরিবর্তনের সাথে সাথেই রাজ্যজুড়ে মশার উপদ্রব এবং সেই সঙ্গে ডেঙ্গির প্রকোপ বাড়তে শুরু করেছে। প্রতি বছরই এই মরণকামড়ে আক্রান্ত হন বহু মানুষ। চিকিৎসকদের মতে, ডেঙ্গি আক্রান্ত হওয়ার পর অনেকেই প্রাথমিক উপসর্গগুলোকে সাধারণ মরশুমী জ্বর ভেবে ভুল করেন এবং চিকিৎসায় দেরি করে ফেলেন। অথচ শুরুতেই রোগটি চিহ্নিত করতে পারলে খুব সহজেই সুস্থ হওয়া সম্ভব।
আপনার বা পরিবারের কারও ডেঙ্গি হয়েছে কি না, তা বোঝার জন্য কিছু প্রাথমিক লক্ষণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি। নিচে এর প্রধান উপসর্গগুলো আলোচনা করা হলো:
তীব্র জ্বর এবং হাড় ভাঙা ব্যথা ডেঙ্গির প্রধান এবং প্রথম লক্ষণ হলো হঠাৎ করে তীব্র জ্বর আসা। এই জ্বর সাধারণত ১০২ থেকে ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠতে পারে। জ্বরের পাশাপাশি সারা শরীরে, বিশেষ করে পিঠে, কোমরে এবং হাড়ের জোড়ে জোড়ে (Joints) প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হয়। এই তীব্র ব্যথার কারণেই ডেঙ্গিকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় অনেক সময় ‘ব্রেক-বোন ফিভার’ বা হাড় ভাঙা জ্বর বলা হয়ে থাকে।
চোখের পেছনে ব্যথা চোখের মণির পেছনের অংশে প্রচণ্ড ব্যথা হওয়া ডেঙ্গির একটি অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট লক্ষণ। বিশেষ করে চোখ ঘোরাতে গেলে বা ওপর-নিচ করতে গেলে এই অস্বস্তি ও ব্যথা মারাত্মক আকার ধারণ করে। এর সাথে তীব্র মাথাব্যথাও দেখা যায়।
ত্বকে লালচে র্যাশ বা ফুসকুড়ি জ্বর আসার দুই থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে শরীরের বিভিন্ন অংশে, বিশেষ করে হাত, পা এবং বুকে লালচে রঙের ছোট ছোট র্যাশ বা ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে। অনেক সময় এই র্যাশগুলো দেখতে হামের মতো হয় এবং এতে মৃদু চুলকানিও হতে পারে।
অরুচি, বমি বমি ভাব ও ক্লান্তি ডেঙ্গি ভাইরাসের প্রভাবে রোগীর পরিপাকতন্ত্রে সমস্যা দেখা দেয়। ফলে খাবারে চরম অরুচি, মুখে তেতো ভাব এবং কিছু খেলেই বমি বমি ভাব বা সরাসরি বমি হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা যায়। এর পাশাপাশি শরীর মারাত্মকভাবে দুর্বল ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে।
রক্তপাতের লক্ষণ ডেঙ্গি পরিস্থিতি জটিল হলে দাঁতের মাড়ি, নাক বা ত্বক থেকে সামান্য রক্তপাত হতে পারে। রক্তে প্লেটলেট বা অণুচক্রিকার সংখ্যা দ্রুত কমতে শুরু করলে এই লক্ষণগুলো দেখা দেয়, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক।
কখন অবিলম্বে হাসপাতালে যাবেন? সাধারণত মশার কামড় খাওয়ার ৪ থেকে ১০ দিনের মধ্যে এই লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়। চিকিৎসকদের পরামর্শ, জ্বর হওয়ার পর নিজে থেকে কোনো কড়া অ্যান্টিবায়োটিক বা পেইনকিলার (যেমন আইবুপ্রোফেন) খাওয়া একেবারেই উচিত নয়, কারণ এতে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ে। জ্বর যদি দুই দিনের বেশি স্থায়ী হয়, তবে অবহেলা না করে অবিলম্বে রক্তের ‘ডেঙ্গি এনএস১’ (NS1 Antigen) পরীক্ষা করানো উচিত এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে প্রচুর পরিমাণে জল ও তরল খাবার খাওয়া প্রয়োজন।





