৮ লক্ষ কোটির ঋণের বোঝা নিয়ে নতুন বাজেট: বিকশিত বাংলার স্বপ্নে কতটা সফল বিজেপি সরকার?

২০২৬ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অবশেষে বিধানসভায় পেশ হলো রাজ্যের নতুন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট। রাজ্যের অর্থমন্ত্রী ডক্টর স্বপন দাসগুপ্ত আজ ৪.৩৮ লক্ষ কোটি টাকার এই বাজেট পেশ করেন। তবে এই নতুন যাত্রার শুরুতেই বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে এসেছে আগের সরকারের রেখে যাওয়া প্রায় ৮.১৫ লক্ষ কোটি টাকার বিপুল ঋণের বোঝা।

বাজেটের মূল লক্ষ্য: অর্থমন্ত্রীর বাজেট ভাষণে বারবার উঠে এসেছে ‘বিকশিত ভারত’ ও ‘বিকশিত বাংলা’ গড়ার লক্ষ্য। বাজেটে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। বেকারত্ব দূর করতে রাজ্যে এক লক্ষ সরকারি শূন্যপদে নিয়োগের ঘোষণা করেছে সরকার। এছাড়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) বৃদ্ধি, অন্নপূর্ণা যোজনা ও নতুন পরিকাঠামো প্রকল্পের ঘোষণা দিয়ে এই বাজেটকে জনমুখী করার চেষ্টা করা হয়েছে।

রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি: ওয়াকিবহাল মহলের মতে, রাজ্যের এই বাজেটে কেন্দ্রীয় বাজেটের স্পষ্ট ছাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এই বাজেটকে ‘সর্বব্যাপী ও সর্বস্পর্শী’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে সরকারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি মনে করছেন, এই বাজেট বাংলাকে ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

অন্যদিকে, অর্থনীতিবিদ ও শিল্পমহলের একাংশের মতে, উন্নয়নের এই পথ কতটা প্রশস্ত হবে, তা নির্ভর করছে আর্থিক শৃঙ্খলার ওপর। বেঙ্গল চেম্বার অফ কমার্সের ট্যাক্সেশন কমিটির চেয়ারপারসন বিবেক জালানের মতে, উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া এই বিপুল ঋণ পরিশোধের পাশাপাশি বাজেটে বরাদ্দ অর্থ কোথা থেকে জোগান দেওয়া হবে, তা সরকারের জন্য আগামী আট মাসের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।

নতুন সরকার এই আর্থিক সংকটের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে প্রতিশ্রুতি কতটা পূরণ করতে পারে, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় রাজ্যের সাধারণ মানুষ।