২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে এক অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক নজির গড়েছে বাংলা। সব রেকর্ড ধুয়েমুছে সাফ করে রাজ্যে ভোটদানের হার ছাড়িয়ে গিয়েছে ৯০ শতাংশের গণ্ডি। তবে এই ব্যাপক পরিসংখ্যানেও সবথেকে বড় চমক দেখা গিয়েছে রাজ্যের ৮৫টি মুসলিম অধ্যুষিত আসনে। সংখ্যালঘু প্রধান এই কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের অভূতপূর্ব অংশগ্রহণ দেখে এখন ঘুম উড়েছে তাবড় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
রেকর্ড বৃদ্ধি: কোথাও ২%, কোথাও ২০%
‘আজ তক’-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সংখ্যালঘু প্রধান এলাকাগুলোতে গত বিধানসভা নির্বাচনের তুলনায় এবার ভোটদানের হার অবিশ্বাস্যভাবে বেড়েছে। মুর্শিদাবাদ, মালদা, উত্তর দিনাজপুর, বীরভূম এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো জেলাগুলিতে সকাল থেকেই বুথের বাইরে ছিল মানুষের দীর্ঘ লাইন। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ জেলায় ভোটদানের মেজাজ দেখে চোখ কপালে ওঠার জোগাড় রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।
মুর্শিদাবাদের চিত্র: ২০ শতাংশের লাফ
মুসলিম জনসংখ্যার নিরিখে শীর্ষে থাকা এই জেলায় রঘুনাথগঞ্জ কেন্দ্র একাই ২০.৫ শতাংশ ভোট বাড়িয়ে এক নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। পিছিয়ে নেই জেলার অন্য কেন্দ্রগুলোও:
জঙ্গিপুর: ১৭.৯ শতাংশ বৃদ্ধি
সাগরদিঘি: ১৬.৪ শতাংশ বৃদ্ধি
শমশেরগঞ্জ: ১৬ শতাংশ বৃদ্ধি
সুতি: ১৪.৫ শতাংশ বৃদ্ধি
বাধা পেরিয়ে বুথমুখী জনতা
ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশের পর থেকেই বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার একাধিক অভিযোগ তোলা হয়েছিল। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, প্রতিকূলতা ভোটারদের দমানোর বদলে জেদ বাড়িয়ে দিয়েছিল। ফলে ব্যালট বক্সে নামার হিড়িক দেখে একে স্রেফ ভোটদান নয়, বরং এক ‘ভোট-বিপ্লব’ হিসেবেই দেখছেন অনেকে।
বদলাবে কি ২০২১-এর সমীকরণ?
২০২১ সালের নির্বাচনে এই ৮৫টি আসনের মধ্যে ৭৫টিই গিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসের ঝুলিতে। দীর্ঘকাল ধরে এই এলাকাগুলো ঘাসফুল শিবিরের দুর্ভেদ্য দুর্গ হিসেবে পরিচিত। তবে ২০২৬-এর এই জনজোয়ার কি শাসক দলের আসন আরও বাড়াবে, নাকি এই ব্যাপক হারে ভোট বৃদ্ধি অন্য কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে— তা নিয়ে এখন চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে রাজনীতির অন্দরমহলে।
বাংলার ভাগ্যবিধাতা হিসেবে এই ৮৫টি আসন সবসময়ই বড় ভূমিকা পালন করে। এ বছর সংখ্যালঘু এলাকায় ভোটের এই ‘সুনামি’ ৪ঠা জুনের চূড়ান্ত ফলে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।





