“৬ মাসে ২,০০৪ বার ফোনালাপ!”-কেতন খুনে সিয়া-চেতনের ‘ঘৃণ্য’ পরিকল্পনা ফাঁস পুলিশের।

রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়াল হত্যাকাণ্ডের তদন্তে প্রতিদিনই সামনে আসছে একের পর এক হাড়হিম করা তথ্য। এতদিন প্রতিশোধ বা সম্পত্তি নিয়ে জল্পনা চললেও, পুলিশের সাম্প্রতিক দাবি অনুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ ছিল ‘বিয়ে এড়ানোর জেদ’। তদন্তকারীদের দাবি, কেতনকে সরিয়ে দিতে পারলে অন্তত ৩ বছর বিয়ের চাপ থেকে মুক্ত থাকা যাবে—এমনই পরিকল্পনা ছিল মূল অভিযুক্ত সিয়া গোয়েলের।
কেন খুন? নেপথ্যে ত্রিকোণ প্রেমের টানাপোড়েন
পুলিশের জেরায় সিয়া স্বীকার করেছেন যে, তিনি কেতনকে মোটেও বিয়ে করতে চাননি। তদন্তকারীদের সন্দেহ, সিয়ার প্রেমিক চেতন চৌধুরীও সিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের খাতিরেই বিয়ের আগে আরও ২-৩ বছর সময় চেয়েছিল। সমাজের কাছে বিয়ে ভাঙার অপবাদ এড়াতে সিয়া ও চেতন অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় খুনের এই ভয়ঙ্কর পথ বেছে নিয়েছিল বলে অভিযোগ।
তদন্তে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য:
৬ মাসে ২,০০৪ বার ফোনালাপ: তদন্তে কল ডিটেইল রেকর্ড (CDR) খতিয়ে দেখে পুলিশ স্তম্ভিত। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সিয়া ও চেতনের মধ্যে ২,০০৪ বার ফোনালাপ হয়েছে, যার মোট সময়কাল প্রায় ২৩৮ ঘণ্টা। এটিই তাদের গভীর সম্পর্কের পাশাপাশি খুনের ষড়যন্ত্রের অন্যতম বড় প্রমাণ বলে মনে করছে পুলিশ।
ক্যাফেতে শেষ বৈঠক: খুনের ঠিক আগের দিন, ১৭ জুন পুনের লুল্লানগরের একটি ক্যাফেতে ঘণ্টাখানেক বৈঠক করেন সিয়া ও চেতন। এই বৈঠকেই খুনের ‘ফাইনাল ব্লুপ্রিন্ট’ তৈরি হয়েছিল বলে পুলিশের অনুমান।
ডিজিটাল তথ্য মুছে ফেলার চেষ্টা: পুলিশের দাবি, ধরা পড়ার ভয়ে দুজনেই তাঁদের ফোন থেকে সমস্ত হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট, ইনস্টাগ্রাম মেসেজ ও রিসাইকেল বিনের তথ্য মুছে ফেলেছে। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে সেই তথ্য উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
বন্ধুত্বের সূত্রেই প্রেম, এরপরই ষড়যন্ত্র
তদন্তে জানা গেছে, সিয়ার দাদা সাহিল গোয়েলের ক্রিকেট খেলার সূত্রেই চেতনের সঙ্গে পরিচয় সিয়ার। এরপরই তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে কয়েক জন বন্ধুর সঙ্গে উদয়পুরে পাঁচ দিন কাটান তাঁরা। তদন্তকারীদের ধারণা, সেই সফর থেকেই সম্পর্কের গভীরতা বাড়ে এবং কেতনকে সরানোর ছক কষতে শুরু করেন তাঁরা।
দাদাকে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ
এই ঘটনায় শুক্রবার সিয়ার দাদা সাহিল গোয়েলকে প্রায় ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। সিয়া-চেতনের সম্পর্ক এবং ঘটনার বিষয়ে আরও তথ্য পেতে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও জিজ্ঞাসাবাদের তালিকায় রাখা হয়েছে।
তদন্তকারী অফিসারদের মতে, মুছে ফেলা ডিজিটাল তথ্য উদ্ধার করতে পারলেই এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিটি রহস্যের জট খুলবে। ঘটনার পর থেকে গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।