৬ বছর পর খুলছে রহস্যের জট! সুশান্তের ম্যানেজারের মৃত্যুতে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ বোম্বে হাইকোর্টের

ছয় বছর দীর্ঘ আইনি লড়াই এবং ধোঁয়াশার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সুশান্ত সিং রাজপুতের প্রাক্তন ম্যানেজার দিশা সালিয়ান মৃত্যু রহস্যের ফাইল পুনরায় খুলতে চলেছে সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (CBI)। বোম্বে হাইকোর্ট এই চাঞ্চল্যকর মামলায় সিবিআই তদন্তের কড়া নির্দেশ দিয়েছে। আদালত সাফ জানিয়েছে যে, কেন্দ্রীয় এজেন্সির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত বিস্তারিত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেবেন। দিশা সালিয়ানের বাবা সতীশ সালিয়ানের দায়ের করা এক রিট পিটিশনের ভিত্তিতে এই ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে হাইকোর্ট।

আইনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘লাইভ ল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই আইনি লড়াইয়ে আদালতে মূলত তিনটি ভিন্ন পক্ষ জোরালো সওয়াল করে। একদিকে ছিলেন দিশার বাবার আইনজীবী, অন্যদিকে মুম্বাই পুলিশ ও রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিত্বকারী আইনজীবীরা এবং তৃতীয় পক্ষে ছিলেন শিবসেনা (ইউবিটি) বিধায়ক আদিত্য ঠাকরে। মূলত দিশার বাবা প্রথম থেকেই এই হাই-প্রোফাইল মামলায় আদিত্য ঠাকরের ভূমিকার বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

সিবিআই তদন্তের যৌক্তিকতা তুলে ধরতে দিশার আইনি দল আদালতে বেশ কিছু অকাট্য যুক্তি পেশ করে। প্রথমত, পরিবারকে কখনোই দিশার মূল ময়নাতদন্তের কপি দেওয়া হয়নি এবং মুম্বাই পুলিশ শুরু থেকেই তদন্তে চরম অবহেলা করেছে। আদালতের কড়া হস্তক্ষেপে দীর্ঘ পাঁচ বছর পর সেই রিপোর্ট হাতে আসে। দ্বিতীয়ত, পুলিশ প্রথম থেকেই কোনো সুনির্দিষ্ট এফআইআর নথিভুক্ত না করে কেবল একটি অ্যাক্সিডেন্টাল ডেথ রিপোর্ট (ADR) তৈরি করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছিল বলে অভিযোগ ওঠে। তৃতীয়ত, দিশার বাবা এফআইআরে যাদের নাম উল্লেখ করেছিলেন, পুলিশ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ বা তদন্তের আওতায় আনেনি। চতুর্থত, পরিবারের গভীর বিশ্বাস যে এটি কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা ছিল না, বরং সুপরিকল্পিতভাবে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছিল।

বিচারপতি সারং কোটওয়াল এবং বিচারপতি রঞ্জিত সিনহা ভোসালের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ রায়দানকালে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে যে, ন্যায়বিচার সুনিশ্চিত করার স্বার্থেই এই মামলার নতুন করে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। আদালত সিবিআইকে দুটি প্রধান নির্দেশিকা দিয়েছে—প্রথমত, তদন্ত কেবল সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানেই পরিচালিত হবে এবং চূড়ান্ত সত্য সামনে না আসা পর্যন্ত কাউকে তাড়াহুড়ো করে অভিযুক্ত করা যাবে না; দ্বিতীয়ত, তদন্ত শেষে যদি কোনো অপরাধের প্রমাণ না মেলে, তবেই সিবিআই আইন অনুযায়ী মামলাটি বন্ধের আবেদন নিয়ে আদালতে ফিরবে।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ৮ জুন মুম্বাইয়ের মালাড এলাকার একটি চতুর্দশ তলা বহুতল ভবন থেকে রহস্যজনকভাবে নিচে পড়ে মৃত্যু হয় দিশা সালিয়ানের। মুম্বাই পুলিশ সেই সময় ঘটনাটিকে নিছক দুর্ঘটনা বলে দাবি করলেও, সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর ঠিক আগে এই আকস্মিক পরিণতি সমগ্র দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। এবার সিবিআইয়ের নতুন এই তদন্তের হাত ধরে চাঞ্চল্যকর এই রহস্যের জট পুরোপুরি খোলে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।