১১ দিন নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে উদ্ধার দক্ষিণ আফ্রিকান চিতা ‘নির্বা’! স্বস্তির নিঃশ্বাস বনবিভাগের

মধ্যপ্রদেশের কুনো জাতীয় উদ্যান (Kuno National Park) থেকে অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক এবং চাঞ্চল্যকর খবর সামনে এসেছে। গত ২০ অগাস্ট থেকে টানা ১১ দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে নিয়ে আসা বিপন্ন मादा চিতা ‘নির্বা’-কে অবশেষে প্রতিবেশী শিবপুরী জেলা থেকে অক্ষত ও সুরক্ষিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, দীর্ঘ তল্লাশি অভিযานের পর তার অকেজো হয়ে যাওয়া স্যাটেলাইট কলারটিও সফলভাবে বদলে ফেলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, ছয় বছর বয়সি এই দক্ষিণ আফ্রিকান চিতা বর্তমানে সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছে এবং তার শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে।

উল্লেখ্য, মধ্যপ্রদেশের শ্যোপুর জেলায় অবস্থিত কুনো জাতীয় উদ্যান থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত শিবপুরী জেলা। চিতাপ্রকল্পের ক্ষেত্র অধিকর্তা ও অতিরিক্ত প্রধান মুখ্য বন সংরক্ষক উত্তম শর্মা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, গত ২০ অগাস্ট নিজের তিন ছানার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর থেকেই নির্বা বেতার যোগাযোগ বা রেডিও সিগন্যালের বাইরে চলে গিয়েছিল। যার ফলে তার সঠিক অবস্থান নির্ণয় করা বন আধিকারিকদের কাছে এক কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে তার শরীরে থাকা স্যাটেলাইট কলারটি সঠিকভাবে কাজ না করায় সমস্যা আরও বহুগুণ বেড়ে গিয়েছিল। এই কলারটি মূলত ২০২৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে চিতাটিকে ভারতে আনার সময় পরানো হয়েছিল।

নির্বার সঠিক সন্ধান পেতে বন বিভাগের পক্ষ থেকে এক বিশাল মাপের উদ্ধার অভিযান চালানো হয়েছিল। প্রতিদিন অন্তত পাঁচটি আলাদা তল্লাশি দল মাঠে নেমেছিল, যার মধ্যে ৫০ জনেরও বেশি অভিজ্ঞ বনকর্মী, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং দক্ষ চিতা ট্র্যাকার দিনরাত এক করে কাজ করছিলেন। পাশাপাশি কুনো ও সংলগ্ন এলাকার স্থানীয় গ্রামবাসীদেরও সচেতন করা হয়েছিল এবং চিতা সংক্রান্ত যেকোনো খবর অবিলম্বে বন দফতরকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছিল। সাধারণ মানুষের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই তল্লাশি দলগুলো তাদের গতিপথ নির্ধারণ করে। অবশেষে বুধবার স্থানীয় গ্রামবাসীদের কাছ থেকে শিবপুরী জেলার একটি গ্রামের কাছাকাছি চিতাসদৃশ প্রাণীর বিচরণের সুনির্দিষ্ট খবর পাওয়া যায়।

খবর পাওয়া মাত্রই বনের অভিজ্ঞ দলগুলো দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় এবং সুকৌশলে নির্বার পরিচয় নিশ্চিত করে তাকে নিরাপদে বন্দি ও উদ্ধার করে। বনকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্ধারের পর তার পুরনো এবং নষ্ট হয়ে যাওয়া স্যাটেলাইট কলারটি নতুন কলার দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে নির্বা সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছে এবং তাকে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এই সফল উদ্ধারের পাশাপাশি বন দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে যে, বর্তমানে ভারতে চিতার মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫২-তে, যার মধ্যে ৩২টি চিতা ভারতেই জন্মগ্রহণ করেছে। এর মধ্যে প্রায় ৩৩টি চিতাকে রেডিও কলার পরানো হয়েছে। বর্তমানে ৪৯টি চিতা কুনো জাতীয় উদ্যানে এবং তিনটি চিতা মান্দসোরের গান্ধী সাগর বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে রয়েছে। প্রসঙ্গত, প্রায় সাত দশক আগে ভারত থেকে চিতা চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার পর, দেশের মাটিতে তাদের বংশবিস্তার ও পুনরুজ্জীবনের উদ্দেশ্যে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ঐতিহাসিক ‘প্রজেক্ট চিতা’ শুরু হয়েছিল।

🔹