পাকা বাড়ি থাকা সত্ত্বেও আবাস যোজনার টাকা নয়ছয়! রাজ্যের রিপোর্ট দেখে হেসেই কূল পেলেন না হাইকোর্টের বিচারপতি?

দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরে বাংলা আবাস যোজনার টাকা নয়ছয় করার অভিযোগে কলকাতা হাইকোর্টে চলা জনস্বার্থ মামলায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী। মামলার শুনানিতে রাজ্যের জমা দেওয়া রিপোর্ট দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছে আদালত। সেই সঙ্গে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসককে নতুন করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক রিপোর্ট না এলে জেলাশাসককে সশরীরে আদালতে তলব করার কড়া হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন বিচারপতিরা। একইসঙ্গে আবাস যোজনার বেআইনিভাবে বন্টিত অর্থ পুনরুদ্ধারেরও নির্দেশ দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ।

জানা গিয়েছে, ২০১৯ সালে জয়নগর-২ ব্লকে বাংলা আবাস যোজনার অর্থ বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ২৪ জন প্রাপকের বেশিরভাগেরই আগে থেকেই পাকা বাড়ি থাকা সত্ত্বেও তাঁদের নামে টাকা পাইয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এছাড়া প্রকৃত উপভোক্তাদের নাম বাদ দিয়ে অন্য নামের তালিকা তৈরিরও গুরুতর অভিযোগ সামনে আসে। এই নিয়ে ২০২১ সালে হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়। ২০২৩ সালে আদালত রাজ্য সরকারের কাছে এই বিষয়ে নেওয়া পদক্ষেপের রিপোর্ট তলব করেছিল।

বৃহস্পতিবার মামলাটি শুনানির জন্য উঠলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি অতরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চের নজরে আসে একটি অদ্ভুত বিষয়। আদালত দেখতে পায়, গত বছরের অর্থাৎ ২০২৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারির একটি পুরনো রিপোর্ট নতুন বলে আদালতে পেশ করা হয়েছে। আদালতের চোখে ধুলো দেওয়ার এই প্রচেষ্টাতেই চরম ক্ষোভে ফেটে পড়েন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি।

আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ, আগামী ১৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জেলাশাসককে লিখিতভাবে জানাতে হবে কেন এমন পুরনো রিপোর্ট আদালতে পাঠানো হলো। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। নির্ধারিত দিনে সঠিক ও আপডেট রিপোর্ট জমা না পড়লে জেলাশাসকের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করার বার্তা দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।