রাতের আকাশ বাঁচাতে ২২ বছরের তরুণের যুগান্তকারী উদ্যোগ! নাসিকের এই গ্রাম হতে চলেছে দেশের নতুন পর্যটন হটস্পট

মহারাষ্ট্রের নাসিক জেলার উদমল গ্রাম এক অনন্য এবং দূরদর্শী উদ্যোগের মাধ্যমে সমগ্র দেশের নজর কেড়ে নিয়েছে। আদিবাসী-অধ্যুষিত এই গ্রামটি এখন দেশের প্রথম ‘ডার্ক স্কাই কমিউনিটি’ হিসেবে গড়ে ওঠার পথে চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো রাতেরবেলা কৃত্রিম আলোর অতিরিক্ত ব্যবহার বা আলোক দূষণ রোধ করা, যাতে গ্রামের আকাশ সব সময় তারায় ভরা এবং পরিষ্কার থাকে। আধুনিক শহুরে সভ্যতার আলোকমালার হাতছানি থেকে দূরে সরে এসে রাতের আকাশকে তার আসল রূপে ফিরিয়ে দেওয়ার এই ঐতিহাসিক প্রচারাভিযান এখন সারা দেশে প্রশংসিত হচ্ছে।

এই অভূতপূর্ব উদ্যোগের মূল প্রণেতা হলেন গ্রামেরই এক ২২ বছর বয়সী তরুণ ছাত্র বিপুল খিরাদি। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কয়েক বছর আগে বিপুল একাই গ্রামের অন্ধকার আকাশে টেলিস্কোপ নিয়ে তারা দেখা শুরু করেছিলেন। এরপর তিনি একা বসে না থেকে গ্রামের প্রতিটি ঘরে ঘরে গিয়ে সাধারণ মানুষকে বোঝাতে শুরু করেন যে, দূষণমুক্ত ও পরিষ্কার রাতের আকাশ কেবল প্রকৃতির সৌন্দর্যই বাড়াবে না, বরং এটি তাদের আয়ের একটি নতুন ও স্থায়ী উৎস হয়ে উঠতে পারে। তাঁর এই সততা ও দূরদর্শিতা দেখে ধীরে ধীরে গ্রামের মানুষ তাঁর এই মহৎ উদ্যোগে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সামিল হতে শুরু করেন।

গ্রামবাসীদের এই সদিচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে জেলা প্রশাসন আদিবাসী উপ-পরিকল্পনার অধীনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য এই বিশেষ প্রকল্পের অনুকূলে ৪২.১৪ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছে। সরকারি এই অনুদানের অর্থ মূলত রাতের আকাশের গুণমান নিরূপণ, পরিবেশবান্ধব আউটডোর লাইটিং সিস্টেম চালু করা, ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচার অভিযান পরিচালনা এবং স্থানীয় যুবসমাজকে জ্যোতির্বিজ্ঞান ও ট্যুরিজমের ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজে ব্যবহার করা হবে। আলোক দূষণ কমানোর লক্ষ্যে গ্রামসভায় ইতিমধ্যেই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পাশ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব বহিরাঙ্গন আলোকসজ্জা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, রাজ্য সরকার কর্তৃক আন্তর্জাতিক ‘ডার্ক স্কাই প্লেস’ মর্যাদার জন্য যে ১১টি বিশেষ স্থানকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করা হয়েছে, তার মধ্যে মহারাষ্ট্রের উদমল গ্রাম অন্যতম। এই তালিকায় কাস মালভূমি, লোনার এবং তোরণমলের মতো বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্রগুলির নামও রয়েছে। রাজ্য প্রশাসন তীব্র আশাবাদী যে, একবার এই প্রকল্প পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে নির্মল ও তারায় ভরা আকাশের টানে দেশ-বিদেশ থেকে প্রচুর পর্যটক উদমল গ্রামে ভিড় জমাবেন। এর ফলে গ্রামে অ্যাস্ট্রো-ট্যুরিজম বা জ্যোতির্বিজ্ঞান-পর্যটন দারুণভাবে উৎসাহিত হবে এবং স্থানীয় আদিবাসী যুবকদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়ে তাদের অর্থনৈতিক অবস্থার অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটবে।