২০২৭-এর উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনে বড় ঘোষণা! কোনো জোটে নয়, একা লড়বে মায়াবতীর বিএসপি?

আসন্ন রাজনৈতিক লড়াইয়ে বড়সড় রাজনৈতিক ঘোষণা করে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটালেন বহুজন সমাজ পার্টির (BSP) জাতীয় সভাপতি তথা উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতী। বৃহস্পতিবার এক গুরুত্বপূর্ণ সর্বভারতীয় বৈঠকে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেন যে, আগামী দিনে সারা দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত হতে চলা সমস্ত ছোট ও বড় নির্বাচনে তাঁর দল সম্পূর্ণরূপে একা লড়বে। এর মধ্যে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মায়াবতী স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, রাজনৈতিক সাফল্যের স্বার্থে তাঁর দল আর কোনো রকম জোটের ওপর নির্ভর করে বসে থাকবে না।

বৈঠকে দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখার সময় মায়াবতী তাঁর উত্তরসূরি ও ভাইপো আকাশ আনন্দের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি পরিষ্কার করেন যে, আকাশ আনন্দকে দলে সম্পূর্ণ সক্রিয় থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছে ঠিকই, তবে তাঁর রাজনৈতিক দক্ষতার পরিধি বাড়াতে আরও অনেক বেশি পরিপক্বতা অর্জন করার প্রয়োজন রয়েছে। সেই কারণেই এই মুহূর্তে তাঁকে দলের অন্দরে কোনো বড় বা প্রধান রাজনৈতিক দায়িত্ব অর্পণ করা হচ্ছে না। বিএসপি প্রধানের এই নির্দেশ দলের অন্দরে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এদিকে মায়াবতীর এই এককভাবে পথ চলার ঘোষণার নেপথ্যে রয়েছে দলের অতীতের অভিজ্ঞতা। এর আগে ২০২২ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনেও বিএসপি সমস্ত ৪০৩টি আসনে একাই প্রার্থী দিয়েছিল। যদিও সেই নির্বাচনে দলটি প্রায় ১২.৮৮ শতাংশ ভোট পকেটে পুরলেও মাত্র একটি আসনেই জয়লাভ করতে সক্ষম হয়েছিল। তা সত্ত্বেও বহুজন সমাজ তথা শोषित ও বঞ্চিত সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষা এবং তাদের রাজ্যের শাসক শ্রেণীতে উন্নীত করার লক্ষ্যেই রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের ওপর সর্বতোভাবে জোর দিচ্ছে বিএসপি।

অন্যদিকে, ২০২৭ সালের আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তরপ্রদেশের রাজনৈতিক ময়দানে ইতিমধ্যেই দলবদলের হাওয়া জোড়দার হয়েছে। বুধবার লখনউতে এক রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে অল ইন্ডিয়া মজলিস-এ-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (AIMIM)-এর প্রভাবশালী প্রাক্তন নেতা আসিম ওয়াকার ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেসে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেছেন। কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার পর আসিম ওয়াকার অতীতে বিরোধী দলগুলোর বিরুদ্ধে এআইএমআইএম-এর আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সমস্ত ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ লড়াই করা।

উল্লেখ্য, বর্তমানে উত্তরপ্রদেশ বিধানসভার মোট আসন সংখ্যা ৪০৩, যার মধ্যে শাসক দল বিজেপির দখলে রয়েছে ২৫8টি আসন, সমাজবাদী পার্টির (SP) কাছে ১০৭টি এবং আপনা দলের ১৩টি আসন রয়েছে। অন্যদিকে, সমাজবাদী পার্টির প্রধান মিত্র হিসেবে কংগ্রেস দল আসন্ন ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তাদের সাংগঠনিক শক্তি ও নির্বাচনী ফলাফল উন্নত করার জন্য মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিগত ২০২২ সালের নির্বাচনে কংগ্রেস প্রায় ৩৯৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মাত্র দুটি আসনে জয়লাভ করতে পেরেছিল। অন্যদিকে, এআইএমআইএম একটি আসনেও জয়ী হতে না পারলেও পরবর্তী সময়ে ভোটব্যাংক ধরে রাখতে নতুন সমীকরণের ছক কষছে। সবমিলিয়ে ইউপি নির্বাচনের দামামা বেজে ওঠার আগেই দলগুলোর এই রাজনৈতিক কৌশল বদল রাজ্য রাজনীতিতে চরম উত্তাপ সৃষ্টি করেছে।