৬৯ লক্ষ পেনশনভোগী কি সত্যিই বঞ্চিত? অষ্টম বেতন কমিশন নিয়ে কেন্দ্রের বিজ্ঞপ্তিতে ‘ভুল’, প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি

আগামী বছর ১ জানুয়ারি থেকে অষ্টম বেতন কমিশন চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে মোদী সরকারের। তার আগে চূড়ান্ত সুপারিশের প্রক্রিয়া শুরু হলেও, এই কমিশনের টার্মস অফ রেফারেন্স (ToR) বা কার্যক্ষেত্রের শর্তাবলী নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও প্রায় ৬৯ লক্ষ পেনশনভোগীর মধ্যে তীব্র বিতর্ক ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। মূল বিতর্কটি হলো, কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে পেনশনভোগীদের আর্থিক সুযোগ-সুবিধার দিকটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি।

কেন এই বিতর্ক ও অভিযোগ?

 

১৩০টি বিভাগের প্রায় ৮ লক্ষ কর্মচারীর প্রতিনিধিত্বকারী কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও শ্রমিক ফেডারেশন সহ প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের কর্মচারী সংগঠন ‘অল ইন্ডিয়া ডিফেন্স এমপ্লোয়িজ় ফেডারেশন’ (AIDEF) এই বিষয়ে সরব হয়েছে। তাদের মূল অভিযোগ ও দাবিগুলি নিম্নরূপ:

  • ৬৯ লক্ষ পেনশনভোগীর উল্লেখ নেই: AIDEF-এর অভিযোগ, ৩ নভেম্বরের বিজ্ঞপ্তিতে কোথাও ৬৯ লক্ষ পেনশনভোগীর কথা উল্লেখ করা হয়নি। সেই ‘ভুল’ সংশোধন করে নতুন নির্দেশিকা জারির দাবি তোলা হয়েছে।

  • পারিবারিক পেনশন বাদ: বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের জন্য চালু থাকা পারিবারিক পেনশন ব্যবস্থার কোনও উল্লেখ ওই বিজ্ঞপ্তিতে নেই বলে অভিযোগ AIDEF-এর।

  • কার্যক্ষেত্র নিয়ে অসঙ্গতি: ‘ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ জয়েন্ট কনসালটিভ মেশিনারি’ (NC-JCM)-এর সঙ্গে বৈঠকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের কর্মচারী সংগঠন অভিযোগ করেছে, আলোচ্য সূচিতে পেনশনের আর্থিক সুযোগ-সুবিধার দিকটিকে রাখা হয়নি।

  • বাস্তবায়নের তারিখ: অতীতে সপ্তম বেতন কমিশন সুপারিশের তারিখ স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করেছিল (১ জানুয়ারি, ২০১৬)। কিন্তু অষ্টম বেতন কমিশন সুপারিশের দিনক্ষণ জানায়নি কেন্দ্র।

আসল বিষয়টি কী?

 

কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও শ্রমিক ফেডারেশনের ক্রমাগত দাবির মূল বিষয় হলো, ToR-এ পেনশন সংশোধন এবং অন্যান্য দাবি স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হোক। যদিও পেনশনভোগীরা প্রযুক্তিগতভাবে ToR-এর বাইরে নন, তবে স্পষ্ট উল্লেখ না থাকার কারণেই মূলত এই বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।

  • পেনশন ও গ্র্যাচুইটি কমিশনের আওতায়: বিজ্ঞপ্তিতে ‘পেনশনভোগী’ শব্দটি লেখা না থাকলেও, তথ্যে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে পেনশন এবং গ্র্যাচুইটি উভয়ই কমিশনের কার্যক্ষেত্রের মধ্যে রয়েছে।

  • পর্যালোচনার দায়িত্ব: অষ্টম বেতন কমিশনকে পেনশন ও গ্র্যাচুইটির সম্পূর্ণ কাঠামো পর্যালোচনা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দুই প্রকারের কর্মচারী অন্তর্ভুক্ত:

    • NPS এবং Unified Pension Scheme-এর আওতাভুক্ত কর্মীদের ডেথ-কাম-রিটায়ারমেন্ট গ্র্যাচুইটি।

    • NPS-এর বাইরে থাকা কর্মীদের গ্র্যাচুইটি এবং পেনশন (যা ‘নন-কন্ট্রিবিউটরি পেনশন স্কিম’ নামে পরিচিত)।

শ্রমিক ইউনিয়নগুলির দাবি

 

কর্মচারী ইউনিয়নগুলি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে আবেদন জানিয়েছে, কর্মী ও পেনশনভোগীদের মধ্যে যেকোনো বিভ্রান্তি দূর করতে ToR-এ এই বিষয়গুলি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হোক। এছাড়াও কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা অষ্টম বেতন কমিশনের অধীনে পেনশন ও পেনশন-সম্পর্কিত সুবিধাগুলির সংশোধন ও দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী পুরনো পেনশন প্রকল্প (OPS) পুনরুদ্ধারের দাবিও রেখেছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যেহেতু কমিশনকে পেনশনের সম্পূর্ণ কাঠামো পর্যালোচনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাই আগামী দিনে পেনশনভোগীদের এই সুবিধা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা কম। তবে শ্রমিক ইউনিয়নগুলি চাইছে এই বিষয়ে সরকারি নিশ্চয়তা