৬৯ রানের ইনিংস নয়, ‘দেশের জন্য জীবনও দিতে রাজি!’ জয়ের পর মোদীর প্রশংসায় কী বললেন ক্রিকেটার তিলক? তোলপাড় নেটপাড়া!

এশিয়া কাপ জিতলেও বিতর্কের কারণে ট্রফি হাতে পায়নি ভারত, কিন্তু এই পরিস্থিতিতে অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবকে পূর্ণ সমর্থন জানালেন ফাইনালের নায়ক তিলক ভার্মা। তাঁর মতে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ এখন আর কোনো ‘লড়াই-ই নয়’। মঙ্গলবার হায়দরাবাদে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি পাকিস্তানের প্রতিপক্ষ হিসেবে আর বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাইলেন না।
সূর্যকুমারের মন্তব্যে সহমত তিলক
সম্প্রতি সুপার ফোরের ম্যাচ জেতার পর সূর্যকুমার যাদব ভারত-পাকিস্তান প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তিলক ভার্মা সেই মন্তব্যের প্রতিধ্বনি করে বলেন, “সূর্যভাইয়ের সঙ্গে আমি সহমত। এখন আর এই ম্যাচে (ভারত–পাকিস্তান) তেমন লড়াই নেই।”
যদিও ফাইনাল হাড্ডাহাড্ডি হয়েছিল, তবুও এশিয়া কাপে তিনটি ম্যাচেই পাকিস্তানকে হারিয়েছে ভারত। ফাইনালের প্রস্তুতি নিয়ে তিলক বলেন, “আমরা ফাইনালের জন্য যথাযথ প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। জানতাম ওরা মন্থর পিচে গতি কমিয়ে বল করবে। আমরা একাধিক ভালো জুটি তৈরি করে ম্যাচটা ছিনিয়ে নিয়েছি। জয়টাই আসল।”
‘অপারেশন তিলক’ বনাম ‘অপারেশন সিঁদুর’
ফাইনালে চাপের মুখে ঠান্ডা মাথায় ৬৯ রানে অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়েছিলেন ২২ বছর বয়সী তিলক। ভারত ২০ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর ক্রিজের এক প্রান্ত আগলে রেখেছিলেন তিনি।
এই জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারতীয় দলকে অভিনন্দন জানিয়ে একে ‘অপারেশন সিঁদুর’ বলে তুলনা করেন। এ প্রসঙ্গে তিলক বলেন, “প্রধানমন্ত্রী আমাদের জয়কে অপারেশন সিঁদুরের সঙ্গে তুলনা করেছেন। অনেকে আবার বলছেন, অপারেশন তিলক। এটা বিরাট পাওনা। তবে আমার এটা পছন্দ নয়। আমরা খেলার মাঠে দেশের প্রতিনিধিত্ব করি। দেশের জন্য কিছু করতে পারায় খুব ভাল লাগছে।”
চাপের মুখে মাথা ঠান্ডা রাখার রহস্য ফাঁস
ফাইনালে শুরুর দিকে ৩ উইকেট পড়ে যাওয়ায় দলের ওপর তৈরি হওয়া চাপ নিয়ে তিলক বলেন, “ওরা (পাকিস্তান) তখন আগ্রাসী ক্রিকেট খেলার চেষ্টা করছিল। আমি মিডল অর্ডারে ব্যাট করি। সে সময় নিজেকে বুঝিয়েছিলাম, বেপরোয়া শট খেলে আউট হলে দেশকে হতাশ করব। দলকে জেতাতে হলে কী করতে হবে, সেটাই তখন আমার একমাত্র ভাবনা ছিল।”
তিলক আরও জানান, মাঠে তাঁকে বিরক্ত করার জন্য অনেক কিছু বলা হচ্ছিল, কিন্তু তিনি মুখ খোলেননি। “এসব হয়। বিশেষ করে ভারত–পাকিস্তান ম্যাচে হয়। এগুলো খেলার অঙ্গ।”
জবাব দিয়েছেন কীভাবে? তিলক বলেন, “ম্যাচ জিতে জবাব দিয়েছি। ওটাই আসল জবাব। দলকে জিতিয়ে জবাব দিতে চেয়েছিলাম। সেটাই করেছি। খেলা শেষ হওয়ার আগে একটা কথাও বলিনি।”
‘দেশের জন্য জীবন দিতেও রাজি’
৬৯ রানের সেই ইনিংসের অনুভূতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “খুবই চাপ ছিল। তবে গোটা ইনিংসটা খেলেছি দেশের কথা ভেবে। দেশ সব সময় আগে। দেশের জন্য আমি জীবন দিতেও রাজি। এটাই মাথায় ছিল। চাপের মধ্যেও মাথা ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করেছি। আমি তখন ১৪০ কোটি মানুষের প্রতিনিধি। নিজের ভুলের জন্য এত মানুষকে হতাশ করতে পারি না।”
এশিয়া কাপ জয়ের পরেও তিলকের স্বপ্ন আরও বড়। তিনি জানান, “আমার লক্ষ্য আরও বড়। দেশের জন্য বিশ্বকাপ জিততে চাই। ২০১১ সালের বিশ্বকাপ দেখেই ক্রিকেটের প্রতি ভালবাসা তৈরি হয়। আগামী বছর বিশ্বকাপ রয়েছে। এখন আমার লক্ষ্য সেই বিশ্বকাপের ভারতীয় দলে সুযোগ পাওয়া এবং দেশকে বিশ্বকাপ জেতানো।”