৬০০ মিটার রাস্তা ধসে চুরমার! কোটি টাকার প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে তীব্র চাঞ্চল্য, বড় বিপাকে নামী নির্মাণ সংস্থা!

কানপুর-লখনউ এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজ এবং তার মান নিয়ে বর্তমানে জাতীয় রাজনীতি ও অর্থনৈতিক মহলে এক বিশাল বিতর্কের ঝড় উঠেছে। এই মেগা প্রজেক্টের নেপথ্যে থাকা দেশের অন্যতম প্রধান ও পরিচিত নির্মাণ সংস্থা পিএনসি ইনফ্রাটেক এক অত্যন্ত গুরুতর বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে। মূলত সংস্থাটির নিজস্ব দাবি এবং দেশের সড়ক পরিকাঠামো নিয়ন্ত্রণকারী শীর্ষ সংস্থা ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (এনএইচএআই)-এর অফিসিয়াল দাবির মধ্যে চরম অসঙ্গতি দেখা দেওয়ার ফলেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি কানপুর-লখনউ এক্সপ্রেসওয়ের বেশ কয়েকটি সংবেদনশীল অংশে আকস্মিক ভূমিধস, বড় বড় ফাটল এবং গভীর গর্ত সৃষ্টি হওয়ার ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে।
ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (এনএইচএআই)-এর পক্ষ থেকে পরিচালিত একটি উচ্চপর্যায়ের কারিগরি তদন্তে বিস্ফোরক দাবি করা হয়েছে যে, অত্যন্ত দুর্বল নির্মাণশৈলী এবং রাস্তার ওপর অ্যাসফাল্টের স্তর বা পিচ সঠিকভাবে না বসানোর ফলেই রাস্তাটি এই বেহাল দশার শিকার হয়েছে। এই ত্রুটিপূর্ণ কাজের জেরে এনএইচএআই ইতিমধ্যে অভিযুক্ত নির্মাণ কোম্পানিটিকে ‘নন-পারফর্মার’ বা অকার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিহ্নিত করে কালো তালিকাভুক্ত করার সরকারি কার্যক্রম শুরু করেছে বলে খবর চাউর হয়। তবে এই চাঞ্চল্যকর দাবির বিপরীতে পিএনসি ইনফ্রাটেক বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ (BSE) এবং ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ (NSE)-কে অবিলম্বে চিঠি পাঠিয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। কোম্পানির দাবি, তাদের এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়নি বা ‘নন-পারফর্মার’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি, বরং তাদের কেবল একটি সাধারণ কারণ দর্শানোর নোটিশ (Show Cause Notice) পাঠানো হয়েছে।
উদ্বেগের বিষয় হলো, ৬৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই কৌশলগত এক্সপ্রেসওয়েটির প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ মিটার অংশ ইতিমধ্যেই ধসে পড়েছে কিংবা মারাত্মকভাবে ভেঙে গেছে। এছাড়াও, পুরো রুটে প্রায় ৮৪টি ভিন্ন স্থানে গুরুতর ত্রুটির সন্ধান পাওয়া গেছে। কোম্পানিটির প্রাথমিক সাফাই অনুযায়ী, এক্সপ্রেসওয়ের কিছু অংশের এই অপ্রত্যাশিত ক্ষতির জন্য তারা সাম্প্রতিককালের একটানা ভারী বৃষ্টিপাতকে প্রধানত দায়ী করেছে। কিন্তু কারিগরি তদন্তে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি নির্মাণে ব্যাপক গাফিলতি ছিল। এদিকে, এই নজিরবিহীন বিতর্কের সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে পিএনসি ইনফ্রাটেকের শেয়ার বাজারে। আস্থার সঙ্কটের জেরে হু হু করে নিচে নেমে গেছে কোম্পানির শেয়ারের দর, যার ফলে চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন সাধারণ লগ্নিকারীরা।
বর্তমান এই পরিস্থিতিতে রাস্তা নির্মাণের প্রকৃত মান, এনএইচএআই-এর কঠোর পদক্ষেপ এবং নির্মাণ কোম্পানির দায়মুক্তি নিয়ে দেশের শিল্প মহলে তীব্র প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ৬৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই স্বপ্নের এক্সপ্রেসওয়ের এমন শোচনীয় অবস্থার জন্য কে বা কারা সরাসরি দায়ী? এটি কি সম্পূর্ণভাবে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রীর ব্যবহার, একটানা বৃষ্টিপাত, নাকি তদারকিতে নিয়োজিত আধিকারিকদের চরম উদাসীনতার ফল? এই পুরো দুর্নীতির ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রশাসনের পরবর্তী কঠোর পদক্ষেপের দিকে এখন দেশের সমস্ত মহলের গভীর নজর রয়েছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, পিএনসি ইনফ্রাটেক কোম্পানির বিরুদ্ধে বিতর্কের এটাই প্রথম ঘটনা নয়, এর আগেও তাদের অতীতের ফাইলে দুর্নীতির একাধিক দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। গত ২০২৪ সালে, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ হাইওয়ে প্রকল্প সম্পর্কিত অবৈধ ঘুষ লেনদেনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই (CBI) এই সংস্থার বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করেছিল, যা আজও তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়।