২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আবহে ফের স্বমহিমায় কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র। এবার তাঁর নিশানায় খোদ পুলিশ প্রশাসন। সোমবার (২৭ এপ্রিল) নির্বাচনী প্রচারের একটি মিছিলে বেরিয়ে পুলিশের একাংশের ওপর চরম ক্ষোভ উগরে দিলেন তিনি। প্রকাশ্য রাস্তা থেকেই পুলিশ আধিকারিকদের উদ্দেশে তাঁর হুঙ্কার— “৫ তারিখের (মে) পর এই থানা তুলে দেব, মনে রেখো!”
ঠিক কী ঘটেছিল?
এদিন বিকেলে কামারহাটি বিধানসভা এলাকায় একটি বর্ণাঢ্য মিছিল করছিলেন মদন মিত্র। সমর্থকদের ভিড়ে এলাকা কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল। সেই সময় ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং নির্বাচনী বিধিনিষেধ পালনের কথা বলে পুলিশের পক্ষ থেকে মিছিলের গতি কমানোর অনুরোধ করা হয়। তাতেই রেগে আগুন হয়ে যান বিধায়ক।
মাইক হাতে নিয়ে তিনি বলতে শুরু করেন:
“পুলিশ কী ভাবছে? ৫ মে-র পর আমি দেখে নেব। এই থানা থাকবে না, তুলে দেব সব কটাকে। আমার ছেলেদের গায়ে হাত দিলে আমি কিন্তু ছেড়ে কথা বলব না।”
৫ মে-র রহস্য কী?
২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হবে ৪ মে। মদন মিত্রের ইঙ্গিত স্পষ্ট— ৫ মে যখন নতুন সরকার (তৃণমূলের দাবি অনুযায়ী) ফের ক্ষমতায় আসবে, তখন তিনি এই ‘অতি-সক্রিয়’ পুলিশ অফিসারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন। তাঁর এই বক্তব্যে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করার প্রশ্নও উঠছে।
বিরোধীদের তোপ ও প্রশাসনিক উদ্বেগ
মদন মিত্রের এই মন্তব্যের পর বিজেপি এবং বিরোধীরা সরব হয়েছে।
বিজেপির দাবি: “মদন মিত্রের এই মন্তব্যই প্রমাণ করে যে তৃণমূল প্রশাসনকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি মনে করে। পুলিশ যখনই নিরপেক্ষভাবে কাজ করার চেষ্টা করছে, তখনই তাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।”
কমিশনের নজর: ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের নজরে এই ভিডিও ফুটেজ পৌঁছেছে বলে খবর। ডিউটিরত সরকারি কর্মীকে হুমকি দেওয়ার অপরাধে তাঁর বিরুদ্ধে বড় কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় কি না, সেটাই দেখার।
মদন মিত্রের ‘কালারফুল’ মেজাজ
প্রসঙ্গত, মদন মিত্র মানেই বিতর্কিত শব্দ আর চটুল উক্তি। তবে এবার সরাসরি থানা তুলে দেওয়ার হুমকি দেওয়ায় কামারহাটি পুলিশ মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিধায়কের অবশ্য দাবি, “পুলিশ সাধারণ কর্মীদের ওপর জুলুম করছে, বিধায়ক হিসেবে আমি তা মেনে নেব না।”
জনগণের প্রতিক্রিয়া: “ওহ্ লাভলি” থেকে “থানা তুলে দেব”— মদন মিত্রের এই রূপবদল এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রেন্ডিং।
ভোটের উত্তাপে এই ধরণের মন্তব্য নির্বাচনী পরিবেশকে আরও তপ্ত করে তুলবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।





