‘৫৬ বছরের যুবক নই!’ সংসদ অধিবেশনের শুরুতেই রাহুল গান্ধীকে নিয়ে বিস্ফোরক প্রধানমন্ত্রী মোদী!

সংসদের আসন্ন বাদল অধিবেশন শুরুর প্রাক্কালেই জাতীয় রাজনীতির পারদ চরমে তুলে দিলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সোমবার সকালে সংসদ চত্বরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি দেশের প্রথম বেসরকারি রকেট ‘বিক্রম-১’-এর দুর্দান্ত সাফল্যের কথা জোরালোভাবে তুলে ধরেন এবং বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে নাম না করে অত্যন্ত তীব্র ভাষায় কটাক্ষ করেন।
এদিন প্রধানমন্ত্রী স্কাইরুট অ্যারোস্পেসের তরুণ বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের অসাধারণ সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন। ভারতের উদীয়মান যুবসমাজ মহাকাশ গবেষণা ও অভিযানকে যে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে, তা তিনি এক বাক্যে স্বীকার করেন। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, এই সফল সংস্থার পুরো গবেষক দলের সদস্যদের গড় বয়স মাত্র ২৮ বছর। এই পরিসংখ্যান তুলে ধরার পরেই প্রধানমন্ত্রী তাৎপর্যপূর্ণভাবে মন্তব্য করেন, ‘আমি এখানে কোনো ৫৬ বছরের যুবকের কথা বলছি না।’ রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহল এবং অভিজ্ঞ রাজনৈতিক গুরুরা প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যটিকে সরাসরি কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর উদ্দেশে এক সুচিন্তিত ও পরোক্ষ রাজনৈতিক খোঁচা হিসেবেই দেখছেন।
উল্লেখ্য, রাহুল গান্ধী গত জুন মাসেই ৫৬ বছরে পা রেখেছেন। দীর্ঘকাল ধরে দেশের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস তাঁকে নিজেদের তরুণ নেতৃত্বের অন্যতম প্রধান প্রতীক বা যুবরাজ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করে আসছে। সেই বিশেষ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে মাথায় রেখেই মোদীর এই তির্যক মন্তব্য আগামী দিনে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে আরও তীব্র সঙ্ঘর্ষের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়ে দিল।
এদিকে কেবল রাজনৈতিক আক্রমণেই থেমে থাকেননি প্রধানমন্ত্রী, এদিন তিনি সমস্ত রাজনৈতিক দলের বিরোধীদের উদ্দেশে একটি অত্যন্ত স্পষ্ট ও গঠনমূলক বিতর্কের জোরালো আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্টভাবে মনে করিয়ে দেন যে, যে সমস্ত আলোচনায় শক্তিশালী ও পোক্ত যুক্তি থাকে, সেখানে অপ্রাসঙ্গিক বা অযথা রাজনৈতিক ঝড় তোলার কোনো অবকাশ থাকে না। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এবারের সংসদীয় অধিবেশনে এমন একটি সুস্থ ও ফলপ্রসূ আলোচনা হোক, যেখানে প্রত্যেকে নিজের মতামত ব্যক্ত করার সুযোগ পাবেন এবং সহকর্মীদের অনুভূতির প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করবেন।
প্রধানমন্ত্রী নিজের বক্তব্যে আরও বলেন যে, বর্ষা বা বাদল অধিবেশন—উভয়কেই দেশের অগ্রগতির স্বার্থে সমানভাবে ফলদায়ক করে তোলা সম্ভব, যা দেশকে নিরন্তর উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে নিয়ে যায়। তাই তিনি আন্তরিকভাবে চান এবারের অধিবেশন যেন কোনো প্রকার হট্টগোল ছাড়া সম্পূর্ণভাবে গঠনমূলক ও দেশের জন্য সুফল বয়ে আনে।
অন্যদিকে, বক্তृतার শেষাংশে দেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির খতিয়ানও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বিশ্বমঞ্চে ভারতের ক্রমবর্ধমান সাফল্যের কথা উল্লেখ করে জানান যে, বর্তমান সময়ে পশ্চিম এশিয়ার নানা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও অস্থিরতা সত্ত্বেও ভারত প্রায় ৭.৭ শতাংশ শক্তিশালী বৃদ্ধির হার বজায় রেখে বিশ্বের অন্যতম দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ হিসেবে নিজের জায়গা শক্ত করে রেখেছে। পাশাপাশি, দেশের ভেতরে সেমিকন্ডাক্টর প্ল্যান্ট নির্মাণ, হাইড্রোজেন ট্রেনের সফল পরিচালনা এবং উদীয়মান মহাকাশ গবেষণা ক্ষেত্রে দেশের স্টার্টআপগুলির অভাবনীয় সাফল্যের কথাও তিনি গর্বের সঙ্গে দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেন।