৫০ প্রশ্ন ভুলের অভিযোগ নিয়ে বিশেষজ্ঞ কমিটির রিপোর্ট জমা হাইকোর্টে, নম্বর পেয়ে টেট উত্তীর্ণ হলে এবার মিলবে চাকরি? অবস্থান জানাল প্রাথমিক পর্ষদ

প্রাথমিক টেট ২০১৭ (TET 2017) এবং টেট ২০২২ (TET 2022) পরীক্ষার প্রশ্ন ভুল মামলায় শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ সামনে এসেছে। প্রায় ৫০টি প্রশ্ন ভুল থাকার অভিযোগে যে মামলা হয়েছিল, তার প্রেক্ষিতে আদালত নিযুক্ত বিশেষজ্ঞ কমিটি রিপোর্ট পেশ করেছে। বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ দিয়েছে, প্রশ্ন ভুলের জন্য নম্বর পাবেন সংশ্লিষ্ট দুই টেটের সকল পরীক্ষার্থী—তাঁরা মামলা করুন বা না করুন!

দীর্ঘ সময় ধরে মামলা চলার পর, বিশেষজ্ঞ কমিটির পেশ করা রিপোর্টে জানা যায়—২০১৭ সালের টেটে ২৩টি এবং ২০২২ সালের টেটে ২৪টি প্রশ্ন ভুল থাকার অভিযোগ উঠেছিল। যাদবপুর ও প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ নিযুক্ত বিশেষজ্ঞ কমিটি যৌথভাবে এই ৫০টি প্রশ্ন খতিয়ে দেখে শুক্রবার রিপোর্ট জমা দিয়েছে।

সবাইকে নম্বর দেওয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের
শুক্রবার বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর বেঞ্চে এই মামলার শুনানি ছিল। রিপোর্ট দেখে বিচারপতির কড়া পর্যবেক্ষণ:

“যাঁরা আদালতে এসেছেন এবং যাঁরা আদালতে আসেননি, তাঁদের প্রত্যেককেই ভুল প্রশ্নের জন্য নম্বর দিতে হবে।”

অর্থাৎ, শুধু মামলাকারীদের নয়, ওই দুটি টেট পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রতিটি পরীক্ষার্থীই এই নির্দেশিকার ফলে উপকৃত হবেন।

চাকরির সুযোগ নিয়ে পর্ষদের অবস্থান
হাইকোর্টের এই নির্দেশিকার পর প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। পর্ষদ জানিয়েছে, প্রশ্ন ভুলের জন্য নম্বর পাওয়ার পর যদি কোনো মামলাকারী টেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন, তাহলে তাঁদের চলতি প্রাথমিক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সুযোগ দেওয়া হবে।

নম্বর বণ্টন কীভাবে?
কোন পদ্ধতিতে নম্বর দেওয়া হবে এবং ঠিক কত নম্বর দেওয়া হবে, সে ব্যাপারে আগামী সোমবার আদালতে জানাবে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। পর্ষদের জবাব পাওয়ার পর আদালত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

প্রাথমিক টেটের এই মামলায় হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ রাজ্যের লক্ষ লক্ষ টেট পরীক্ষার্থীর জন্য বড় স্বস্তি নিয়ে এলো। সোমবার ফের বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হবে, সেদিকেই এখন নজর সবার।