৫০৫ কোটি টাকা বরাদ্দ সত্ত্বেও কেন রোগী ফেরানো হচ্ছে? ছত্তিশগড়ে মুখ থুবড়ে পড়ল ‘আয়ুষ্মান ভারত’

ভারতের স্বাস্থ্য খাতে মোদী সরকারের ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’ এখন মুখ থুবড়ে পড়ার পথে। ছত্তিশগড়ে এই প্রকল্পের আওতায় বেসরকারি হাসপাতালগুলোর কাছে রাজ্য সরকারের কোটি কোটি টাকা বকেয়া থাকায় চরম সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী সংস্থা (AHPI) ছত্তিশগড়ে পাঁচ দিনের জন্য পরিষেবা স্থগিত রাখার ঘোষণা করেছে।

ছত্তিশগড় AHPI-এর সভাপতি রাকেশ গুপ্তা জানিয়েছেন, “আর্থিক তহবিল ছাড়া হাসপাতাল পরিচালনা করা অসম্ভব।” রাজ্যের একাধিক বেসরকারি হাসপাতালের লক্ষাধিক টাকার বিল বকেয়া রয়েছে। বিশেষত, শিশু হাসপাতালগুলো সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে, কারণ শিশুদের ব্যয়বহুল অস্ত্রোপচার এবং দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার জন্য জরুরি তহবিলের প্রয়োজন হয়।

রামকৃষ্ণ কেয়ার, ভিওয়াই, দানি এবং এনকেএইচ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের রোগীরা অভিযোগ করেছেন যে, তাঁদের কাছে বৈধ আয়ুষ্মান কার্ড থাকা সত্ত্বেও হাসপাতালগুলো নগদ অর্থ দিতে বাধ্য করছে। রামকৃষ্ণ হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ সন্দীপ দাভে বলেন, “অনেক টাকা বকেয়া আছে। অর্থ তহবিল ছাড়া হাসপাতালগুলো এই প্রকল্প আর চালাতে পারবে না।” বিলাসপুরের এক রোগী জানান, বিনামূল্যে চিকিৎসার কথা থাকলেও, তাঁকে চিকিৎসার জন্য নিজের জমি বন্ধক রাখতে হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে ছত্তিশগড়ের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শ্যামবিহারী জয়সওয়াল বলেছেন, “কেন্দ্রের বরাদ্দ-সহ মোট ৫০৫ কোটি টাকা ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও জানান, যে হাসপাতালগুলো প্রকল্পের আওতায় চিকিৎসা দিচ্ছে না, তাদের লিখিতভাবে বিষয়টি সরকারকে জানাতে হবে।

তবে এই টানাপোড়েনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন গরিব রোগীরা, যারা উন্নত চিকিৎসার আশায় এই প্রকল্পের ওপর নির্ভরশীল। প্রশ্ন উঠেছে, কেন এই প্রকল্পের টাকা সময়মতো হাসপাতালগুলোতে পৌঁছাচ্ছে না, এবং এই অবস্থার সমাধান কবে হবে।