৫০০ বছরের পুরোনো মসজিদ ঘিরে দাঙ্গা, চার্জশিট বাতিল করতে আদালতে আর্জি, কারা জড়িত ছিল?

গত বছর উত্তরপ্রদেশের সাম্ভল জেলার ৫০০ বছরের পুরোনো শাহী জামা মসজিদকে ঘিরে যে ভয়াবহ দাঙ্গা হয়েছিল, সেই মামলার চার্জশিট বাতিলের আবেদন নিয়ে আজ এলাহাবাদ হাইকোর্টে গুরুত্বপূর্ণ শুনানি অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। মসজিদ পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান জাফর আলি এই আবেদনটি দাখিল করেছেন, যিনি দাঙ্গায় উস্কানির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এবং সম্প্রতি হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন।

২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর একটি প্রত্নতাত্ত্বিক সমীক্ষা চলাকালীন মসজিদের ওজু করার জায়গা খালি করা হলে গুজব ছড়িয়ে পড়ে, যা দ্রুত হিংসাত্মক রূপ নেয়। এই সংঘর্ষে পাঁচজন মুসলমানের মৃত্যু হয় এবং বহু মানুষ আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসনকে কার্ফু জারি করতে হয়।

এই ঘটনার তদন্তের জন্য একটি বিশেষ তদন্ত দল (SIT) গঠন করা হয়েছিল, যা সম্প্রতি ৪,৪০০ পৃষ্ঠার একটি চার্জশিট দাখিল করেছে। এই চার্জশিটে ৩৭ জনের নাম রয়েছে, যার মধ্যে সমাজবাদী পার্টির সাংসদ জিয়াউর রহমান বার্ক এবং স্থানীয় কংগ্রেস বিধায়ক ইকবাল মাহমুদের পুত্রও রয়েছেন। এছাড়াও, ৩,৭৫০ জনকে “অজ্ঞাত অভিযুক্ত” হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, দাঙ্গার মূল চক্রান্তকারী হলেন সাম্ভলের বাসিন্দা শারিক সাথা, যিনি দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলে ৩০০টিরও বেশি গাড়ি চুরির একটি চক্র চালাতেন। তার বিরুদ্ধে দাউদ ইব্রাহিম এবং পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর সঙ্গে যোগসাজশের মতো মারাত্মক অভিযোগও আনা হয়েছে।

জাফর আলি দাবি করেছেন যে, SIT-এর তদন্ত পক্ষপাতদুষ্ট ও ভিত্তিহীন। তার মতে, মসজিদ কমিটির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং আদালতের উচিত এই চার্জশিট বাতিল করা। আজ বিচারপতি সমীর জৈনের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হবে, যা পুরো মামলার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

এই ঘটনা শুধু আইনি নয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রেও ব্যাপক আলোড়ন ফেলেছে। এটি আবারও প্রমাণ করল যে কীভাবে একটি ঐতিহাসিক ধর্মীয় স্থানকে কেন্দ্র করে উত্তরপ্রদেশে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা দ্রুত বিস্ফোরক রূপ নিতে পারে।